রঘু রাই: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মানবতার এক অনন্য দলিল

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৯আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪১

ভারতীয় আলোকচিত্র জগতের কিংবদন্তি রঘু রাই আর নেই। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দিল্লিতে ৮৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময়জুড়ে তার ক্যামেরা শুধু ছবি তুলেনি, বরং সময়, ইতিহাস ও মানুষের যন্ত্রণাকে নথিবদ্ধ করেছে।

১৯৪২ সালে অবিভক্ত ভারতের ঝাং (বর্তমান পাকিস্তানের অন্তর্গত) অঞ্চলে জন্ম নেওয়া রঘু রাই শুরুতে ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তবে পেশাগত সেই পথ ছেড়ে তিনি ক্যামেরাকেই বেছে নেন জীবনের মূল ধারা হিসেবে। মাত্র ২৩ বছর বয়সে বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় তার ফটোগ্রাফির যাত্রা শুরু হয়, যা পরবর্তীকালে তাকে বিশ্বখ্যাত ফটোসাংবাদিকে পরিণত করে।

১৯৬৫ সালে তিনি পেশাদার ফটোগ্রাফি শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় প্রধান আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীকআলে তিনি খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক ফটো এজেন্সি ‘ম্যাগনাম ফটোস’-এর সঙ্গে যুক্ত হন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় রঘু রাই শরণার্থী শিবির, সীমান্ত এলাকা এবং যুদ্ধের মানবিক বাস্তবতা ক্যামেরায় ধারণ করেন। তার তোলা শরণার্থীদের দুর্দশা, অনাহার, ক্লান্তি ও সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয়ের জন্য ছুটে চলা মানুষের ছবি  বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ ভিজ্যুয়াল দলিল হয়ে ওঠে।

রঘু রাই’য়ের ক্যামেরায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন শরণার্থীদের দুর্দশা

তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে তিনি ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পদ্মশ্রী পুরস্কার লাভ করেন। এরপরও তিনি বিশ্বব্যাপী নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আলোকচিত্র ধারণ করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।

রঘু রাইয়ের ক্যামেরায় উঠে এসেছে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম। ইন্দিরা গান্ধী, দালাই লামা, মাদার তেরেসা থেকে শুরু করে ভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস—সবই তার ফ্রেমে ধরা পড়েছে।

রঘু রাই’য়ের ক্যামেরায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন শরণার্থীদের দুর্দশা

তিনি বহু বই প্রকাশ করেছেন এবং বিশ্বের নামকরা ম্যাগাজিনে তার ফটোস্টোরি প্রকাশিত হয়েছে। মানবিক সংকট, যুদ্ধ, দুর্যোগ ও সামাজিক বাস্তবতাকে তিনি আলোকচিত্রের মাধ্যমে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা তাকে আলাদা মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে।

রঘু রাইয়ের মৃত্যুতে বিশ্ব ফটোগ্রাফি জগতে এক যুগের অবসান হলো। তবে তার তোলা ছবিগুলোই রয়ে যাবে ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে।

ছবিঋণ: টিবিএস

/এম/  
সম্পর্কিত
যেভাবে সিসিমপুরকে বাংলাদেশের করে তুলেছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণ
স্বাধীনতা যুদ্ধ আর জুলাই আন্দোলন এক নয়: ত্রাণমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
ঢামেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দীপু মনি আবার কারাগারে
ঢামেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দীপু মনি আবার কারাগারে
ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
বিরোধী এমপিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ঘোষণা, স্পিকার বললেন ‘আমি কোনোদিন কানাকড়িও পাইনি’
বিরোধী এমপিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ঘোষণা, স্পিকার বললেন ‘আমি কোনোদিন কানাকড়িও পাইনি’
চট্টগ্রামে হত্যা মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
চট্টগ্রামে হত্যা মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
সর্বাধিক পঠিত
একসঙ্গে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক চাকরিচ্যুত
একসঙ্গে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক চাকরিচ্যুত
চলতি বছরেই দেশে ফিরবো: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা
চলতি বছরেই দেশে ফিরবো: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা
দেশে ভূমিকম্প অনুভূত
দেশে ভূমিকম্প অনুভূত
প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে সংসদ ভবনে মধ্যাহ্নভোজ
প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে সংসদ ভবনে মধ্যাহ্নভোজ
‘পুলিশের সিনেমা শেষ, সবাই চল, ভাই বের হয়ে গেছে’
‘পুলিশের সিনেমা শেষ, সবাই চল, ভাই বের হয়ে গেছে’