সদরঘাটে উপচেপড়া ভিড়, খুশি লঞ্চ মালিকরা

পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাকি একদিন। আজ শুক্রবার চাঁদ দেখা গেলে কাল শনিবার ঈদ। শেষ মুহূর্তে রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট নৌ টার্মিনালে তাই উপচেপড়া ভিড় দক্ষিণাঞ্চলগামী মানুষের। কানায় কানায় যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন রুটে ছেড়ে যাচ্ছে লঞ্চগুলো। যাত্রী উপস্থিতিতে খুশি লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা। ভিড় থাকলেও পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকায় আরামে ও স্বস্তিতে যাত্রা করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন নৌযাত্রীরা।

ঈদের ছুটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে, বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাজধানীর সদরঘাট নৌ টার্মিনালে ছিল যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়, যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ভোরে ছেড়ে যাওয়া বরিশাল, ভোলা, বরগুনাসহ দূরপাল্লার লঞ্চ ও সকাল থেকে ছেড়ে যাওয়া চাঁদপুর, মাদারীপুরসহ স্বল্প দূরত্বের লঞ্চগুলোতে যাত্রীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল সদরঘাট টার্মিনালে।

ছেড়ে যাওয়ার সময় কোনও লঞ্চেই আসন ফাঁকা থাকছে না (ছবি: সুবর্ণ আসসাইফ)

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও এর আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট দেখা হয়। ঘরমুখো যাত্রীদের অনেকেরই গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। বিশেষ করে রায়সাহেব বাজারমোড় থেকে ব্যাগ-বস্তা হাতে ঘাটের দিকে আসতে দেখা যায় অনেককে।

লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেমন আশা করেছিলেন, যাত্রী উপস্থিতি তেমনই। লঞ্চ ছাড়ার আগেই ডেকের যাত্রী ভরে যাচ্ছে। রোজার শুরু থেকেই কেবিন বুকিং নেওয়ায় অধিকাংশ কেবিন বিক্রি হয়ে আছে। তাই শেষ মুহূর্তে কেবিন ও ডেক কোনোটাই খালি থাকছে না। বরিশাল রুটে নিয়মিত সময়ের মতো দুই-তিনটি লঞ্চ চলাচল করলেও তা পরিপূর্ণ হয়ে ছাড়ছে।

রাতে লঞ্চের যাত্রী হচ্ছে বেশি (ছবি: সুবর্ণ আসসাইফ)

বরিশাল রুটের এমভি সুরভি লঞ্চের স্টাফ হেদায়েত মিয়া বলেন, যাত্রী উপস্থিতি ভালো। বরিশাল রুটে লঞ্চের ট্রিপ বাড়েনি। তবে লঞ্চ যেগুলো যাচ্ছে, ভরে যাচ্ছে। কবিন আগেই বুক হয়ে থাকছে। যা অল্প কয়টা বাকি থাকছে, লঞ্চ ছাড়ার আগে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ডেকে অল্প কিছু ফাঁকা থাকলেও আমরা লঞ্চ সময়মতো ছেড়ে দিচ্ছি।

ভোলাগামী পারাবত-১৩ লঞ্চের পরিচালক শাহিন হোসেন বলেন, যাত্রী উপস্থিতি বৃহস্পতিবার অনেক বেশি ছিল। বিকেল থেকে ঘাটে মানুষের পা ফেলার জায়গা ছিল না। আমরা অতিরিক্ত যাত্রী নিচ্ছি না। লঞ্চ ভরে গেলে সময়ের আগেই ছেড়ে দিচ্ছি। শুক্রবারও একইরকম ভিড় হবে বলে ধারণা করছেন তিনি।

যাত্রীদের চাপ থাকলেও টিকিট কাটতে সমস্যা হচ্ছে না

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতিরিক্ত তাপদাহের কারণে আরামদায়ক নৌযাত্রা বেছে নিয়েছেন তারা। ঘাটে এসে টিকিট পেতেও ভোগান্তি হচ্ছে না। তবে কেবিন পাওযা যাচ্ছে না সহজে। লঞ্চের ভাড়া সব রুটেই কম-বেশি বাড়ানো হয়েছে, তবে তা সহনীয় মাত্রায়।

বৃহস্পতিবার রাতে ভোলাগামী যাত্রী রাশেদুন্নবী বলেন, ঘাটে পৌঁছাতে কষ্ট হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে পুরো হেঁটে আসতে হয়েছে। তবে কেবিন বুক করা ছিল আগেই। লঞ্চে আগের মতো অতিরিক্ত যাত্রী নেই। তাই ভালো লাগছে, মনে হচ্ছে স্বস্তিতে যেতে পারবো। ভাড়া একটু বেশি। তবে আগে ঈদের সময় যেভাবে বাড়াতো সেভাবে না।

আশানুরূপ যাত্রী পেয়ে খুশি লঞ্চমালিকরা (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

বরিশালগামী যাত্রী তৌহিদ ইসলাম বলেন, গরমে বাসে যাওয়া কষ্ট হবে। তাই লঞ্চে যাবো। তবে ঘাটে এসে কেবিন পাইনি। তাই ডেকে যাচ্ছি। অতিরিক্ত যাত্রী নেই ডেকে এটাই ভালো লাগছে।

মিরপুর থেকে পরিবারসহ সদরঘাটে আসেন আবরার রহমান। তিনি বলেন, বরিশাল যাবো পরিবার নিয়ে। আগেই কেবিন বুকিং করেছিলাম। তবে গুলিস্তান থেকে আসতে সময় লেগে গেছে। প্রচণ্ড যানজট ছিল। আর ঘাটে এসে দেখি এত ভিড়। তবে লঞ্চে উঠতে পেরেছি ভালো লাগছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, বরিশাল ও পটুয়াখালী রুটে আটটি করে লঞ্চ ও অন্যান্য রুটগুলোতে কমপক্ষে দুই-তিনটি করে লঞ্চ যাবে। যাত্রীর চাপ আছে, তবে আশানুরূপ নয়। অন্যান্য সময়ের তুললায় চার ভাগের এক ভাগ। শুক্রবার চাপটা বাড়বে বলে আশা করছি। ভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশ আমাদের। এরপরও কেউ অতিরিক্ত ভাড়া বা টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

ঈদের আগের দিন যাত্রীদের চাপ আরও বাড়বে বলেও ধারণা করছেন লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

বিআইডব্লিউটিএ সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. কবীর হোসেন বলেন, যাত্রীর চাপ বিগত দিনগুলোর থেকে বৃহস্পতিবার অনেক বেশি ছিল। তবে চাপ সামলাতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক টার্মিনাল মনিটরিং করছেন।

সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান খান বলেন, পুলিশ, র‌্যাবসহ আনসার সদস্যরা যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সন্দেহজনক কিছু দেখলে তল্লাশিও চালানো হচ্ছে। যাত্রীর চাপ বাড়লে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। আমাদের নৌপুলিশ ঘাটে ও লঞ্চে উভয় স্থানে কাজ করছে।