মদিনায় ঈদ করছেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের পীর সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন

সাধারণত চট্টগ্রামেই ঈদ উদযাপন করেন ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের পীর সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী মাইজভাণ্ডারী। মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে বিশাল ঈদ জামাতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার ঈদের দিন। এরপর ছেলেমেয়ে, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, পীর-আলেম ওলামা, বিশিষ্টজন ও আশেক ভক্তদের সঙ্গে ঈদ-শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের মূল কেন্দ্র চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হলেও জনহিতৈষী কার্যক্রম ঢাকা থেকে পরিচালিত হয়। সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী মাইজভাণ্ডারী সুফিবাদচর্চার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও সক্রিয়। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার রাজনৈতিক কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রও ঢাকায়।

মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের পীর সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী

ঈদ উদযাপন নিয়ে আলাপকালে সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদ মূলত আমি মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফেই করি। মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে বিশাল ঈদের জামাত  অনুষ্ঠিত হয়। আমি ওখানেই নামাজ আদায় করি।’

‘নামাজের পর মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের আওলাদে পাকগণ, আত্মীয়-স্বজন, পীর-আলেম ওলামা, বিশিষ্টজন ও আশেক ভক্তদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়’, বলেন সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী।

মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী জানান, ফটিকছড়ি দরবার শরিফে ঈদের দিন তার ট্রাস্ট্রের মাধ্যমে পরিচালিত মাদ্রাসা, এতিমখানা ও হেফজখানার ছাত্র, ভক্ত ও অতিথিসহ সবার জন্য বিভিন্ন ধরনের খাওয়া দাওয়ার আয়োজন থাকে। সন্ধ্যার পর ধর্মীয় অনুশাসন মেনে ছেমা-কাওয়ালির আয়োজন করা হয়।

ঈদের স্মৃতি নিয়ে তিনি করেন, ‘ঈদ এলে শৈশবের ঈদের অনেক কথাই মনে পড়ে। সে সময়ে বাবা মায়ের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের স্মৃতিগুলো ছিল অসাধারণ।’

সামাজিক কার্যক্রমে পীর সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী

তার ভাষ্য, ‘আমার আব্বাজান কেবলা বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সাবেক প্রেসিডেন্ট শায়খুল ইসলাম হজরত শাহ সুফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ) ঈদের জামাতে ইমামতি করতেন। ঈদের দিন আলেম-ওলামা পীর মাশায়েখসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আসতেন আব্বাজান কেবলার সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য। এই সময়ে তিনি খুবই ব্যস্ত থাকতেন। তারপরও আমাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ আন্তরিক সময় দিতেন। সেই সময়গুলোর কথা মনে হলে ইচ্ছে হয় আবারও শৈশবে ফিরে যাই।’

প্রতিবার চট্টগ্রামে মাইজভান্ডার শরিফে ঈদ উদযাপন করলেও এবার ঈদে সৌদি আরব থাকবেন সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী।  তিনি বলেন, ‘এ বছর আমি পবিত্র ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরব অবস্থান করবো। ঈদের দিন মদিনা শরিফে থাকবো বলেই আশা রাখছি।’

ঈদে ভক্তদের পরামর্শ দিয়ে সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, ‘দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা তথা ঈদ মোবারক জানাচ্ছি। পাশাপাশি আর্থিকভাবে সচ্ছল নেতা ও ভক্তদের প্রতি আহ্বান জানাবো—সাধ্যমতো এতিম, গরিব, অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে।’