ঈদের দিনেও চলছে টুকিটাকি কেনাকাটা

রমজান মাসজুড়ে বেচা-বিক্রি ও নানান সেবামূলক কাজে ব্যস্ত থাকায় অনেকেরই সুযোগ হয়নি নিজের জন্য ঈদের কেনাকাটা করার। তাই ঈদের দিনেই সুযোগ করে আসেন কেনাকাটা করতে। মার্কেটের সব দোকান খোলা না থাকলেও কিছু কিছু দোকান এসব ক্রেতার জন্য খোলাই ছিল।

শনিবার (২২ এপ্রিল) মিরপুরের কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, অল্পকিছু দোকান খোলা রয়েছে। এসব দোকানের বেশিভাগই কাপড় ও জুতার। দোকান খোলা রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে দোকানিরা বলেন, অনেক ক্রেতা রয়েছেন যারা কাপড়ের দোকানে কাজ করেন, তারা নিজের জন্য কাপড় কিনলেও জুতা কেনার সুযোগ হয় না। তাদের অনেকেই ঈদের দিন জুতা কিনতে আসেন। ঠিক একইভাবে জুতার দোকানের কর্মীরা কাপড় কিনতে আসেন। কারও কারও আবার পার্লার, সেলুনসহ নানান সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ঈদ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয় বলে আগে কেনাকাটার সুযোগ হয় না।পোশাক-01

কথা হয় আইরিন সু গ্যালারির বিক্রেতা বাদলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার পরিচিত কিছু ক্রেতা আছে, যারা সারা রমজানে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদের জন্যই দোকান খোলা রাখি। মনে করেন, আমি নিজেও তো ভোর পর্যন্ত দোকান খোলা রেখেছি। পরে নামাজ পড়ে কর্মচারীদের বিদায় দিয়ে নিজেই আবার দোকান খুলেছি। আমার নিজেরই এখনও কিছু কেনা হয়নি। বাসায় বউ-বাচ্চারা মিলে শপিংয়ে গিয়ে আমার জন্য শুধু একটা পাঞ্জাবি কিনে রাখছে।’

মিরপুর নান্নু মার্কেটের সাজেদা ফ্যাশনের বিক্রেতা শাহিন বলেন, ‘বেশি না হলেও অল্প কিছু লোক ঈদের দিন আসে কেনাকাটা করতে। খুব বেশি বিক্রি হয় তা না। তবুও প্রত্যেক বছর খোলা রাখি এই মানুষগুলোর জন্য। আমারও কিছু জমা থাকা মাল বিক্রি হয়।’

এদিকে মোহাম্মদপুর থেকে জুতা কিনতে আসা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সারা মাসই ব্যবসা নিয়া ব্যস্ত ছিলাম। ঈদের দিন সকালে মিরপুরে আসছি আব্বার কবর জিয়ারত করতে। জুতার দোকান খোলা দেখে নিজের জন্য একটা জুতা নিয়ে গেলাম।’

সু-02

বিউটি পার্লার কর্মী রুপা তার সহকারী আরাফাতকে নিয়ে নান্নু মার্কেটে পোশাক কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘ঈদ যত এগিয়ে আসে আমাদের ব্যস্ততাও বাড়ে। এইসময় কোথায় যাওয়ার সুযোগ হয় না, মার্কেট করবো কখন। তাই ঈদের দিনেই আসছি। এই দিন কোনও না কোনও দোকান খোলাই থাকে।’