ট্রেন দুর্ঘটনায় পা হারানো শিশুটির পরিবারকে খুঁজছে হাসপাতাল

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশনে ট্রেনের ইঞ্জিনের চাকার নিচে আটকে পড়েছিল আট বছর বয়সী রাজু। ট্রেনের নিচ থেকে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। 

শুক্রবার (২১ এপ্রিল) তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় তার ডান পা থেঁতলে যায়, হাসপাতালে নেওয়ার পর হাঁটুর ওপর থেকে থেঁতলে যাওয়া অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শিশুটির পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই শিশুটির চিকিৎসাসহ দেখা শোনা করছে।

জানা গেছে, ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশনে ট্রেনের ইঞ্জিনের চাকার নিচে আটকে পড়ে শিশু রাজু। প্রত্যক্ষদর্শীরা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের একটি দল দুর্ঘটনাস্থলে যায়। পরবর্তীতে যন্ত্রপাতির সাহায্যে ট্রেনের চাকা উঁচু করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসার জন্য ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) নেওয়া হয়।

নিটোরে গিয়ে দেখা গেছে, ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে একা বিছানায় শুয়ে আছে রাজু। তার ডান পায়ের হাঁটুর ওপর থেকে কাটা, গায়ে কোনও জামা নেই। তবে তাকে একটি কাঁথা দেওয়া হয়েছে। অসুস্থতায় ঠিকমতো কথাও বলতে পারছে না সে। নিজের ও বাবার নাম ছাড়া কিছুই বলতে পারছে না শিশুটি। 

রাজু জানিয়েছে, তার বাবার নাম মো. সাদ্দাম হোসেন। রাজু নিজের বাড়ি ময়মনসিংহে বলতে পারলেও কোন উপজেলায় বা কোন গ্রামে সেটা বলতে পারছে না।

হাসপাতালের নার্সরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকেই তাকে ওষুধ ও খাবার দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের আয়া তার দেখাশোনা করছেন। সে ঠিকানা বলতে না পারায় পরিবারে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সে কারও ফোন নম্বরও বলতে পারছে না।

দুর্ঘটনার দিন রাজুকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুসা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাকে খুব মুমূর্ষু অবস্থায় আমরা উদ্ধার করেছি। ঘটনাস্থলে অনেকে বলছিলেন আশপাশের বস্তিতে কোনও এক বোবা ব্যক্তির সঙ্গে থাকতো সে। রাজুর কাছ থেকেও আমরা জানতে চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সে তেমন কিছুই বলতে পারছিল না। পরবর্তী সময়ে আমি নিজে হাসপাতালে নিয়ে যাই। আমার পকেট থেকে টাকা দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে আসছি।’