ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবীদের জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবি

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি এবং আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র। পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (৫ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন চত্বরে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের স্মরণে এক আলোচনা সভায় এই দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। সভায় নেত্রকোণার বারহাট্টায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত মুক্তি রাণী বর্মণের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানো ও নারী পুরুষের সম-অধিকার, সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিও জানান বক্তারা। 

এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নারীমুক্তি কেন্দ্রের অর্থ সম্পাদক নায়মা খানম মণিকা ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ঢাকা নগর ফোরামের সদস্য মানস নন্দী। আলোচনার শুরুতে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের প্রতিকৃতিতে ফুল শ্রদ্ধা নিবেদন করে নারীমুক্তি কেন্দ্রের নেতারা।  

প্রীতিলতাকে নিয়ে নায়মা খানম মণিকা বলেন, ‘ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে শুরুতে পুরুষরাই অংশ নিতেন। তখন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার চিন্তা করেন, আমরা ভাইয়েরা আন্দোলন করতে পারলে আমি কেন পারবো না? তখন বিপ্লবী আন্দোলনের নেতারাও মেয়েদের সঙ্গে নেওয়ার পক্ষে ছিলেন না। নানা বাধা উৎরিয়ে প্রীতিলতা বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দেন। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো অনেকেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে কাজ করেছেন। আমাদের দাবি হচ্ছে— ছাত্র সমাজের সামনে তাদের নাম ও ভূমিকা তুলে ধরার দাবি জানাচ্ছি।’

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেতা মানস নন্দী বলেন, ‘আমরা ব্রিটিশ, পাকিস্তানিদের সঙ্গে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এসে বর্তমান সময়ে আমরা নেত্রকোনায় দেখলাম যে, এক কিশোর আরেক কিশোরীকে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে হত্যা করেছে। আমরা আমাদের কিশোরদের হত্যাকারী, খুনি বানাচ্ছি, খুনি হয়ে গড়ে উঠছে। এর জন্য সমাজব্যবস্থা কি দায়ী নয়! যারা শাসন করছে তারা কি দায়ী নয়! খুনিরা কি এমনি এমনি জন্ম নিচ্ছে? অবিভক্ত ভারতে স্বাধীনতার আদর্শে এদেশের কিশোর-তরুণরা প্রাণ বিসর্জন দিতে এগিয়ে এসেছিল, আজকে সেই দেশের উত্তরসূরি কিশোর-তরুণরা আজকে খুনি হচ্ছে! কারও ভেতর নীতি-নৈতিকতা নেই।’ 

সভাপতির বক্তব্যে সীমা দত্ত বলেন, ‘এই আয়োজন যখন করছি তখন দেশের পরিস্থিতি কি, তা আপনারা জানেন। দেশে দ্রব্যমূল্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। এখানে উন্নয়ন বলতে বুঝাচ্ছে মেট্রোরেল, ব্রিজ সড়ক ইত্যাদি কিন্তু এখানে যে বেকারত্ব, দারিদ্রতা বাড়ছে সেই সূচকগুলো আমাদের সামনে আসছে না। প্রীতিলতাকে এই কারণে স্মরণ করছি যাতে আমাদের যেই তরুণ সমাজ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তেজোদ্দীপ্ত হিসেবে দেখতে পেয়েছিলাম সেই তরুণ সমাজ যাতে গড়ে উঠে। কোনও তরুণ যাতে মাদকাসক্ত, ধর্ষক, খুনি হিসেবে গড়ে না ওঠে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে এই অপরাধগুলো ঢুকে গেছে তা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারসহ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বিপ্লবীদের জীবনকর্ম তুলে ধরে প্রদর্শনীতে দেখান সংগঠনটি।