শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এবং মালালা ফান্ডের যৌথ উদ্যোগে শুরু হচ্ছে ‘অদম্য’ প্রকল্প। শনিবার (১৭ জুন) এই প্রকল্পের উদ্বোধন হয়। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ পর্যন্ত চলবে এই প্রকল্প, যার মূল উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।
রবিবার (১৮ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানাও হয়।
প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন মালালা ফান্ডের বাংলাদেশ প্রতিনিধি মোশাররফ তানসেন এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করভি রাকসান্দ।
জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও মালালা ফান্ডের ‘অদম্য’ প্রকল্পটি বাংলদেশের শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়া মেয়ে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার একটি প্রয়াস। জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য, লিঙ্গবৈষম্যর মতো বিভিন্ন বাধা মোকাবিলা করে মেয়েদের ক্ষমতায়ন, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়াই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করভি রাকসান্দ বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ৩৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ মেয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না। দারিদ্র্য, বৈষম্য, ও পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রায় অর্ধেক শিশু ঝরে পড়ে, যা তাদের শিক্ষার পথচলায় বাধা সৃষ্টি করে। প্রকল্পটি শুরু হলে মেয়েদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে সাহায্য করবে।’
মালালা ফান্ডের বাংলাদেশ প্রতিনিধি মোশাররফ তানসেন বলেন, ‘প্রত্যেক শিশু ও নারীসহ সবাইকে গুণগত শিক্ষার আওতায় আনতে মালালা ফান্ড কাজ করে। এই ফান্ড ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির দিক দিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে। আমরা চাই আমাদের মেয়েদের জলবায়ু পরিবর্তনের সহনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে। আমাদের অদম্য কর্মসূচির এটাই লক্ষ্য। এ জন্য চর, হাওর অঞ্চল বেছে নিয়েছি এই কর্মসূচির জন্য এবং জাগো ফাউন্ডেশন মিঠামইনে এই কাজের দায়িত্ব পেয়েছে। এখন জাগো ফাউন্ডেশন দুটি স্কুলে কাজ শুরু করেছে। তবে সামনে আরও ৯টা স্কুল ও দুটি মাদ্রাসায় কাজ শুরু করবে।’
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, জাগো ফাউন্ডেশন হাওর এলাকায় শিক্ষা ক্ষেত্রে কাজ করছে, এমন দৃষ্টান্ত বিরল। জাগো ফাউন্ডেশন ও মালালা ফান্ড মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করছে। হাওর এলাকায় যারা ঝরে পড়ছে, তাদের নিয়ে কাজ করছে। এভাবে শিক্ষার উন্নয়নে ও জাতি গঠনে তারা ভূমিকা রাখছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিক্ষিত জাতি যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা গড়তে না পারবো, ততক্ষণ উন্নত জাতিতে পরিণত হতে পারবো না।’
এই প্রকল্পের একজন সুবিধাভোগী ঘাগড়া আঘাগড়া আ. গণি উচ্চবিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জাগো ফাউন্ডেশন ও মালালা ফান্ডের এই প্রকল্প নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী। আমার মতে এটি আমাদের ছাত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। এই প্রকল্পটি দারিদ্র্য, বিভেদের মতো সীমাবদ্ধতা ভেঙে দিয়ে একটি অনুকূল ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করবে বলে আমি আশা করি। দারিদ্র্য, সামাজিক নিয়ম ও বৈষম্যের মতো বাধা ভেঙে দিয়ে প্রকল্পটি দেশের মেয়েদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত করবে। মেয়েরা হবে স্বাবলম্বী, পৌঁছাবে উচ্চতার নতুন শিখরে।’