আদাবরে ঢাবি শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনায় গ্রেফতার ৯

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৩ জুন ২০২৬, ১৮:২৫ আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ২০:৪৮

রাজধানীর আদাবর-শ্যামলী এলাকায় সক্রিয় একটি অপহরণ ও ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলো জাহিদ হোসেন (২০), হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫), ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭), আরিফুল ইসলাম (২৩), মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০), সাকিব (২৪), সোহেল রানা (২৪), মো. নাঈম (২৩) ও মো. মর্তুজা তামিম (২৬)।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম।

তিনি বলেন, আদাবর এলাকায় বেশ কিছু দিন ধরে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের একাধিক ঘটনার তথ্য পাচ্ছে পুলিশ। এর আগেও একই ধরনের অপরাধে জড়িত একটি চক্রকে গ্রেফতার করেছিল মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ।

অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে রাত প্রায় ১১টার দিকে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে তিন থেকে চার জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অপহরণ করে। পরে একটি সরু গলিতে নিয়ে গিয়ে তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এরপর অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই সরু গলিতেই তারা জিম্মি করে রেখে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়মিত টহলে থাকা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছালে অপহরণকারীরা তাদের হাতে থাকা চাকু লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। এ সময় ভুক্তভোগী পুলিশের গাড়ি দেখে সাহস পান এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে টহল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ আসতে দেখে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে জাহিদ নামে একজনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও আট জনকে গ্রেফতার করা হয়।

মো. ফজলুল করিম বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে ভোরের দিকে ব্যবসায়ীরা নগদ টাকা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে মালামাল কিনতে বা আনতে গেলে তাদের টার্গেট করা হতো। চলাচলকারী ব্যক্তিদের অপহরণ করে জিম্মি করা এবং মুক্তিপণ আদায় ছিল চক্রটির প্রধান কৌশল।

এর মধ্যে মূল মাস্টারমাইন্ড জাহিদ। সে-সহ আরও দুই আসামির নামে দুটি করে মামলা রয়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা হয়েছে। এই ৯ জনের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন। আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে আসবো এবং এর সঙ্গে আরও কোনও চক্র আছে কিনা, তারা আর কোথায় কোথায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে, কোনও ভুক্তভোগী আছে কিনা, আমরা সেটাও দেখার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত এ চক্রটি ভুক্তভোগীর মোবাইলের মাধ্যমে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশে টাকা আনে। পরে সেন্ড মানি বা এজেন্টদের কাছ থেকে ক্যাশআউট করে ভুক্তভোগীকে ফেলে দিয়ে চলে যায়।

/এসএনকে/আরকে/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ওপেনএআইয়ের সভাকক্ষে আড়ি পাতার যন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি নাগরিক গ্রেফতার
কমছে শিক্ষার্থী, লন্ডনে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে স্কুল
রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ৯ নেতাকর্মীর মোবাইল ফোন চুরি, থানায় জিডি
প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ৯ নেতাকর্মীর মোবাইল ফোন চুরি, থানায় জিডি
পুলিশের সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
পুলিশের সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
কক্সবাজারে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: রিসোর্টের মালিক দুজন, আসামি কেন একজন?
কক্সবাজারে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: রিসোর্টের মালিক দুজন, আসামি কেন একজন?
মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য কনস্টেবল, যেভাবে ধরা পড়লেন
মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য কনস্টেবল, যেভাবে ধরা পড়লেন
সর্বাধিক পঠিত
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তুলতে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন উপহার
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তুলতে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন উপহার
ওআইসির কাশ্মির প্রস্তাবের নিন্দা ভারতের
ওআইসির কাশ্মির প্রস্তাবের নিন্দা ভারতের
পদত্যাগ করানো সরকারের প্যারাসিটামল থেরাপি: হাসনাত
পদত্যাগ করানো সরকারের প্যারাসিটামল থেরাপি: হাসনাত