ট্রেনে টিকিট চেকিংয়ে কড়াকড়ি, কমেছে চাপ ও ভোগান্তি

ট্রেনের টিকিট শতভাগ অনলাইনে বিক্রির কারণে কমলাপুরে নেই চিরচেনা ভিড়। চেকিংয়ে কড়াকড়ির কারণে টিকিট ছাড়া প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে না পারায় সেখানেও নেই অতিরিক্ত চাপ। প্রতিটি ট্রেন ছাড়ার আগে নন-এসি মোট আসন সংখ্যার ২৫ ভাগ স্ট্যান্ডিং টিকিট হিসেবে ছাড়া হচ্ছে, তবে সেখানে লাইন থাকলেও তা খুব বড় নয়। তবে সরকারি ছুটি শুরু হলে ট্রেনে ভিড় কিছুটা বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার (২৫ জুন) ট্রেনে ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র। গত ১৫ জুন যারা অগ্রিম টিকিট কেটেছেন তারাই আজ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন।

শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় স্টেশনে কোনও চাপ নেই

সরেজমিন দেখা যায়, স্টেশনের ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে বাঁশের ছয়টি গেট তৈরি করেছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ। সেখানে ট্রেনের টিকিট ও এনআইডি কার্ড চেক করা হচ্ছে। বাঁশের গেটের পেছনের অংশে কমিউটার ট্রেনগুলোর টিকিট কাউন্টার থাকলেও সেগুলো স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে কমিউটার ট্রেনের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আসলে কমিউটার ট্রেনের কাউন্টার গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে সরানো হয়েছে। গতবার ঈদের আগের দিন ঘটেছিল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। প্রচুর মানুষ প্ল্যাটফর্মে ঢুকে পড়েছিল। এবার যেন এমনটি না হয়, তাই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আগে থেকে টিকিট কেটে যারা যাত্রীরা নির্বিগ্নে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ঈদযাত্রা এখন পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই করতে পেরেছেন তারা, তাদের প্রত্যাশা যাবার পথের মতো ফিরতি যাত্রাতেও নির্বিঘ্নে ফিরতে পারবেন তারা। এছাড়া, টিকিট ছাড়া ভ্রমণ না করতে পারার বিষয়ে তদারকি সব সময়ের জন্য চেয়েছেন যাত্রীরা৷

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে নেত্রকোনা যাচ্ছিলেন রাজধানীর তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সাদ মোহাম্মদ সাজিদ। তিনি জানালেন শতভাগ টিকিট অনলাইনে দেওয়ায় অন্যান্যবারের মতো ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না। চেকিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচিত সারা বছরই এমন চেকিং চালু রাখা। এতে সারা বছর যাত্রীরা এমন নির্বিঘ্ন রেলসেবা পাবেন।

স্ট্যান্ডিং টিকিটের জন্যও লাইন বেশি বড় নয় কমলাপুরে

এদিকে, ট্রেনের বগিগুলোতে স্ট্যান্ডিং টিকিটের জন্য স্বাভাবিক চাপ থাকলেও তেমন কোনও ভিড় দেখা যায়নি। এবারের ঈদে যাত্রীদের সুবিধার্থে শোভন শ্রেণির (নন-এসি) মোট আসনের ২৫ শতাংশ আসনবিহীন টিকিট (স্ট্যান্ডিং) যাত্রার দিন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে বলে আগেই জানানো হয়েছে।

সব ট্রেনে সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৩২ জোড়া ট্রেন যাত্রী নিয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে কমলাপুর ও ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন থেকে। নির্ধারিত সময়েই প্ল্যাটফর্মে আসছে প্রতিটি ট্রেন। এ ছাড়া যাত্রীচাপ সামাল দিতে আজ পঞ্চগড়, লালমনিরহাটসহ তিনটি রুটে বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫২ জোড়া ট্রেনে ৫০ থেকে ৬০ হাজার যাত্রী আজ ঢাকা ছাড়ছেন বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

সরকারি ছুটি শুরু হলে ভিড় বাড়বে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের

ঈদযাত্রার সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা আশা করছি এবারের ঈদযাত্রা ট্রেনযাত্রীরা উপভোগ করতে পারবেন। যারা টিকিট কাটবেন শুধু তারাই আমাদের সেবা পাবেন। টিকিট ছাড়া কোনও যাত্রীকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তার জন্য আমাদের টিটিই, টিসি, আরএনবি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় কঠোর চেকিং ব্যবস্থা রেখেছি।

ছবি: প্রতিবেদক।