বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর মতো গণতন্ত্রমনা ও সাহসী নেতৃত্বের প্রয়োজন বাংলাদেশের রাজনীতিতে। রবিবার (২৫ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টায় ‘নূরে আলম সিদ্দিকী স্মরণ নাগরিক কমিটির’ উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এ মন্তব্য করেন।
স্মরণসভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, নূরে আলম ভাই ’৬৬-এর ছয় দফা, ’৬৯-এর ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন ও ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ছাত্রলীগ ও ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতার মন্ত্রে মুগ্ধ করে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার স্পৃহা তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৫-এ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকে প্রতিরোধ করতে একটি স্বাধীন শোষণমুক্ত বাংলাদেশ তৈরির জন্য বঙ্গবন্ধু যে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি দিয়েছিলেন, বাঙালির মুক্তির পথ দেখিয়েছেন; তখন সব সংসদ সদস্য পক্ষে বক্তৃতা করলেও, নূরে আলম সিদ্দিকী বিরোধিতা করে পৌনে তিন ঘণ্টা বক্তৃতা করেছিলেন। আমি নূরে আলম ভাইয়ের ভক্ত হিসেবে তাকে এর কারণ জিজ্ঞাস করতে চেয়েছিলাম কিন্তু সে সুযোগ আমার হয়নি। তার মতো মানুষদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও বেশি সময় প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তিনি রাজনীতি থেকে একটা সময় অবসর গ্রহণ করেছিলেন, যা আমাকে ব্যথিত করেছে।
নূরে আলম সিদ্দিকী স্মরণ নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আবেদ খানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চিত্রশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী, নূরে আলম সিদ্দিকীর জীবনী থেকে পাঠ করেন অনিকেত রাজেশ।
অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন লেখক ও সাংবাদিক জাহিদ রেজা নূর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, নূরে আলম সিদ্দিকীর জেষ্ঠ সন্তান তাহজীব আলম সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।