সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে ‘কর্তৃপক্ষ’ প্রতিষ্ঠা করা হবে

সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি ও পেশাদারিত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)’ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করবে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি আইনের খসড়া জাতীয় সংসদে তোলা হয়েছে।

বুধবার (৫ জুলাই) পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি বিল–২০২৩ জাতীয় সংসদে তোলেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে বলা হয়েছে, বিপিপিএর ১৭ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে। তবে সরকার চাইলে এই সদস্য সংখ্যা বাড়াতে বা কমাতে পারবে। পরিকল্পনামন্ত্রী হবেন এই কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। আর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞ কাউকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ করবে সরকার। এই কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকবে। বিপিপিএ তার কাজ সম্পাদনের জন্য যেকোনও ব্যক্তি বা সংস্থার জন্য চুক্তি সম্পাদন করতে পারবে।

এই আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) বিলুপ্ত হবে।

বিলটির কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনা এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৯ সাল হতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে সরকারি ক্রয় পদ্ধতির সংস্কার কার্যক্রম আরম্ভ হয়। এর অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) গঠন করা হয়। সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ডিজিটাল প্লাটফর্ম বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী Electronic Government Procurement (e-GP) ওয়েব পোর্টাল উদ্বোধন করেন এবং এর মধ্য দিয়ে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ১ হাজার ৪৩৭টি অফিসের ১১ হাজার ৩১৮ ‘র বেশি ক্রয়কারী অনলাইনে ‘ই-জিপি’ সিস্টেম ব্যবহার করে ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকরণে ‘ই-জিপি’র কলেবর ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব, দ্রুততম সময়ে বিশেষায়িত জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াজনিত বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন বাজেটের পরিমাণ প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে অনুযায়ী সরকারি ক্রয়ের পরিমাণও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি ক্রয়ের এ বর্ধিত কলেবরের আইনি ও কারিগরি তত্ত্বাবধানের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো সিপিটিইউ-তে নেই।

টেকসই সরকারি ক্রয় নিশ্চিতকরণ ও সহজিকরণের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত আইন যথাযথ বাস্তবায়ন করে সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান সিপিটিইউ'কে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটিতে (বিপিপিএ) রুপান্তর করা এই আইনের উদ্দেশ্যে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

মন্ত্রী প্রত‌্যাশা করেন, ক্রয় কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনয়ন ও দক্ষতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিদ্যমান সিপিটিইউকে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটিতে (বিপিপিএ) রুপান্তর, ২০৪১ সালের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।