আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমাবেশ ঘিরে সংঘাতের উৎকণ্ঠা ছিল অনেকের মধ্যেই। এছাড়া যানজটের কারণে গাড়ি না পাওয়ার অনিশ্চয়তাও ছিল। সকালে অফিসে যেতে পারলেও বিকালে সেই সংশয় বাস্তবতায় রূপ নিলো। দুই দলের সমাবেশকে কেন্দ্রে করে রাজধানীতে দেখা দিয়েছে গণপরিবহন সংকট। অপেক্ষা করে করে দুই একটি বাসের দেখা মিললেও তাতে ওঠার ভাগ্য হচ্ছে না অনেকের। অনেকে রিকশা-সিএনজিতে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছেন, তবে সেখানে ভাড়া বেশি। শেষ পর্যন্ত দুই পা-ই ভরসা বেশিরভাগ মানুষের।
বুধবার (১২ জুলাই) বিকাল ৫টার পর রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট, বনানী, মিরপুর-১০ নম্বর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক কম। কিছুক্ষণ পর এক একটি বাস এলে তাতে যে যার মতো আগে ওঠার চেষ্টা করছেন। তবে যানবাহন না পেয়ে অনেকে হেঁটেই রওনা দেন।
অফিস শেষে বাংলামোটর থেকে বের হয়ে কাওরানবাজার বাসের জন্য অপেক্ষারত মো. জলিল বলেন, ইস্কাটন রোড থেকে হেঁটে এসেছি, কোনও বাস ছিল না। কাওরানবাজার মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছি দেখি কোনও কিছু পাই কিনা। নয়তো সামনের দিকে হেঁটে হেঁটেই যেতে হবে।
কাওরানবাজারে কর্মরত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা নুর ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপির সমাবেশ, ধারণা করেছিলাম গাড়ি পাবো না। সকালে কষ্ট করে আসতে হয়েছে। এখন ছুটির পর অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি, বাস থাকলেও সেসব বাসে যাত্রী ভরপুর। দেখি কিছু না পেলে সামনের দিকে হেঁটে যাবো।
বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রাজিব বলেন, আমার অফিস সাত রাস্তা মোড়ে। অফিস ছুটির পর আজ অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম, কোনও বাস পাইনি। তারপরও দুই একটি বাস যেগুলো এসেছে সেগুলোতে যাত্রীতে ঠাসা ছিল। এখন হেঁটেই বনানী পর্যন্ত এসেছি। বাসা মিরপুর ১৪ নম্বর, শেষ পর্যন্ত পুরো পথ হেঁটেই যেতে হবে।
জরুরি কাজে বনানী থেকে কাওরানবাজারে যাওয়ার জন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন সেকুল নামের একজন ব্যক্তি। তিনি বলেন, ঘণ্টাখানেক হয়ে গেছে কোনও বাস পাচ্ছি না। সমাবেশ করছে রাজনৈতিক দলগুলো, আর ভুক্তভোগী আমরা। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর সৈনিক ক্লাবের পাশ দিয়ে তিনি মহাখালী যাওয়ার জন্য হাঁটা শুরু করেন।
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নাজমুল। অফিসের একটি কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার জন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কিছুটা বিরক্তি নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ভোগান্তির কোনও শেষ নেই।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন রাজু। মিরপুর-১ নম্বর যাওয়ার জন্য ঘণ্টাখানেক ধরে অপেক্ষা করছেন তিনি। বাস কিংবা কোনও কিছু না পেয়ে হেঁটেই মিরপুরের দিকে যাওয়া শুরু করেছেন তিনি।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একজন নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিএনপি যেভাবে সড়কে এবং গণপরিবহনে অগ্নিসন্ত্রাসের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে, সে শঙ্কা থেকেই অনেক মালিক বাস নামাননি। আর কোনও শ্রমিক রিস্ক নিতে রাজি নন। সে কারণে আজ অনেক সড়কে বাস তেমন নামেনি। আমাদের মালিক পক্ষ থেকে কোনও ধরনের নির্দেশনা ছিল না বাস বন্ধ রাখার। শ্রমিক ও গাড়ি চালকরা নিরাপদ বোধ করলে তারা নিজেরাই সড়কে গাড়ি চালানোর জন্য আমাদের বলে।
ছবি: প্রতিবেদক।