‘শিপ্রা বোস ছিলেন আছেন থাকবেন তার কর্মের মাধ্যমে’

গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ও নারী আন্দোলন কর্মী শিপ্রা বোস স্মরণে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় বক্তারা বলছেন, শিপ্রা বোস অবিস্মরণীয় কাজের মাধ্যমে অতীতে সবার মাঝে ছিলেন, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

শুক্রবার (১৪ জুলাই) বিকালে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রজন্ম চত্বরে ‘শ্রদ্ধায়-স্মরণে শিপ্রা বোস’ শিরোনামে স্মরণ সভায় স্মৃতিচারণ করে বক্তারা এসব কথা বলেন। গান, কবিতার মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তার সহযোদ্ধারা। স্মরণ সভা শেষে সন্ধ্যায় মোমবাতি জ্বালিয়ে তার স্মৃতির শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। 

স্মরণ সভায় স্মৃতিচারণ করে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সঙ্গে যারাই ছিলেন, তারাই জানতেন শিপ্রা দি তাদের সঙ্গে আছেন। শিপ্রা দি-রা যখন আন্দোলন শুরু করেন, তখন আমার জন্মও হয়নি। তবুও আমাদের ১০-১১ বছর তার সঙ্গে চলার যে সৌভাগ্য হয়েছে, তার জন্য আমি আনন্দিত। আমি যদি আরেও ২০ বছর আগে তার সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত হতে পারতাম তাহলে নিজেকে আরও সৌভাগ্যবান মনে করতাম। শিপ্রা দি-র মতো মানুষ প্রতিদিন জন্মায় না, তাকে আমাদের সঙ্গে পেয়ে আমরা গর্বিত। তিনি ছাঁয়া হয়ে আন্দোলনের সকল কর্মীকেই আগলে রাখতেন। শুধু সহযোদ্ধাদেরই নয়, সকল মানুষকে তিনি ভালোবাসতেন।’ 

‘শিপ্রা বোসরা শতবছরে একবার জন্মায়’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সুতরাং শিপ্রা বোসের যেই সাহস, সেটি নিয়েই সামনের দিনে আমাদের পথ চলতে হবে। আমাদের সাহসের সাথে তার দর্শন নিয়ে কাজ করতে হবে। এটাকে আমি মনে করি যে তার প্রতি আমাদের সবচেয়ে বড় সম্মান হবে।’ 

স্মরণ সভায় অংশ নিয়ে শিপ্রা বোসের জেঠাতো ভাই চম্পক বসু বলেন, ‘শিপ্রার সঙ্গে আমার বয়সের পার্থক্য সাত মাসের। ও শুধু আমার বোন নয়, আমার খেলার সাথী এবং সবচেয়ে ভালো বন্ধুও ছিল। শিপ্রা আমাকে বলেছিল— কখনও রাজনীতি করলে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি করবি। তার কথা মতোই আমি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি যুক্ত হই। শিপ্রা মাত্র তিন বছর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চাকরি করেন। তারপর জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করেন। শিপ্রা যে কত বড় মানুষ ছিল, তা আমাদের পরিবার জানতো না, সেটি আপনারা জানিয়েছেন। আপনাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’

স্মরণ সভায় গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক ইমরান এইচ সরকার

বন্ধু তপসী সাহা বলেন, ‘একটা লেখা দেখলাম, যদি এক হাজার এক রাত্রির উপন্যাস লেখা হয়, তাহলেও শিপ্রা দি কথা বলে শেষ করা যাবে না, আমি তা মনে করি। বাংলাদেশে জেন্ডার আন্দোলন তৈরিতে শিপ্রার অনেক কাজ রয়েছে। শিপ্রা ছাত্র ইউনিয়ন করলেও সবার বিপদে ঝাপিয়ে পড়তো। শিপ্রা রাজনীতি, রাজনৈতিক আন্দোলনের বাইরেও বুদ্ধিভিত্তিক আন্দোলনে অসামান্য অবদান রেখেছে।’

শিপ্রা বোসের সহযোদ্ধা ও তরুণ প্রকাশক রবিন আহসান, ‘গণজাগরণ মঞ্চের কার কী হলো, শিপ্রা বোস তার সব কিছুর খবর রেখেছেন সোমালিয়ায় বসে। আমরা এমন এক সময় আন্দোলন করছিলাম তখন কারা বন্ধু, কারা শত্রু তাদের চেনা যাচ্ছিল না। সেসময় খোঁজ নিতেন শিপ্রা বোস। কারণ তিনি চিনতেন, জানতেন; কারা গণজাগরণকে বাঁচিয়ে রাখছে, কারা সত্যিকার বিচারের জন্য লড়ছে।’

উদীচীর সহসাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন শিপ্রা বোসের বন্ধু রওনক জাহান, বন্ধু ফওজিয়া খন্দকার ইভা, নুরা শামছিল বাহার, মাঞ্জারে হাসিন মুরাদ, বাকী বিল্লা, শামীম আরা নিপা, অমিত রঞ্জন দে, অনলাইন এক্টিভিস্ট আকরামুল হকসহ আরও অনেকে। এসময় সংগীত পরিবেশন করেন আবদুল ওয়াদুদ, উদীচীর সদস্য উর্মি, সুচরিতা সুতপা, কবিতা আবৃতি করেন কবির হোসেন।