একই দিনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেওয়ায় রাজধানীতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার যাত্রী, পথচারী। যানজটে পড়ে পথেই দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে যাত্রীদের।
এদিকে, পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল কমে যায়। গণপরিবহন না পেয়ে অনেককে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দিতে দেখা গেছে। বিশেষ করে সড়কের যে পাশ দিয়ে পদযাত্রা কর্মসূচি চলছে সে পাশ স্থবির হয়ে পড়ে। একদিকে যানজট অন্যদিক গরমে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর গাবতলী থেকে পদযাত্রা শুরু হলে মিরপুর-১, ১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁওয়ে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। এদিকে সড়কের এক পাশে সব যানবাহন আটকে দিয়ে পদযাত্রা কর্মসূচি চলায় রাজধানীর কিছু পয়েন্টে গাড়িতে বসে ঘণ্টার ঘণ্টার অপেক্ষা করতে হয়েছে যাত্রীদের। অনেক যাত্রীকে বিকল্প পথে সিএনজি বা রিকশায় যাতায়াত করতে হওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে।
কাওরান বাজার থেকে বিহঙ্গ বাসে চড়ে সদরঘাট যাবেন নাছির উদ্দিন। ৪০ মিনিট দাঁড়িয়েও কোনও বাসের দেখা পাননি নাছির। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সদরঘাট থেকে লঞ্চে ভোলা যাবো। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হলো একটা বাসও এলো না। গাড়ি যদি না আসে তাহলে কীভাবে যাবো। রাস্তায় আজকে গাড়ি কম।
একজন পাঠাওচালক বলেন, মিরপুরের দিকে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। পুরো রাস্তা ব্লক। তাই খ্যাপ নিয়ে আপাতত ওই পথে যাচ্ছি না। বিকালের মধ্যে বিজয় সরণি, কাওরান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ হয়ে পল্টন, মতিঝিল এলাকায় তিনটার আগ পর্যন্ত যান চলাচল সীমিত থাকবে। তবে পদযাত্রাটি এসব সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় যানজট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস শেষে বাসায় ফেরা লোকজনের ভোগান্তি বাড়বে।
বিকালে মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে ইত্তেফাক মোড়, দয়াগঞ্জ হয়ে বিকাল ৪টায় রায়সাহেব বাজার মোড়ে গিয়ে পদযাত্রা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএমপির তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহেদ আল মাসুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পদযাত্রাটি যেদিক দিয়ে আসছে সেদিকের সব কয়টা পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে মিরপুর এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যত সামনে আগাচ্ছে ততই বাড়ছে যানজট। আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। তবে কর্মসূচি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সড়কের বর্তমান অবস্থা স্বাভাবিক হবে না।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা এবং সমাবেশের পর সেখান থেকে শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, সিটি কলেজের সামনে হয়ে ধানমন্ডি ৩২ পর্যন্ত র্যালি হওয়ায় এলাকাগুলোতে লোকজনের ভিড় বেড়েছে। এসব সড়কে বিকালের পর যানজট দেখা দেয়। শাহবাগ হয়ে মৎস্য ভবন পর্যন্ত যানজট রয়েছে।
রমনা ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. জয়নাল আবেদীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুপুর দুইটার পর থেকে শাহবাগ হয়ে মৎস্য ভবনের পথে লোকজনের ভিড় বেড়েছে। এতে যানবাহনের কিছুটা ধীরগতি এসেছে। লোকজন রাস্তা থেকে সরে গেলে যানজট কমে যাবে বলে আশা করি। আমাদের পক্ষ থেকে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।
অফিস ফেরা কয়েকজন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কর্মদিবসের দিনে এমন রাজনৈতিক কর্মসূচি অনাকাঙ্ক্ষিত । রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা না করে উল্টো কষ্ট দেয়। এসব কর্মসূচি বন্ধের দিনে আয়োজন করে হলে সবার জন্য ভালো।