ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকার সকল পেট্রোল পাম্প, দোকানপাট, মার্কেট ও শপিং মলে বাধ্যতামূলকভাবে মানসম্মত পাবলিক টয়লেট নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) সকালে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘সাউথ এশিয়ান এক্সচেঞ্জ অন পাবলিক স্যানিটেশন' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়াটারএইড, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্টাফ কলেজ অব ইন্ডিয়া (এএসসিআই), বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং কিম্বারলি-ক্লার্কের যৌথ উদ্যোগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘পেট্রোল পাম্প, গ্যাস স্টেশন, দোকানপাট, মার্কেট ও শপিং মলগুলোতে অবশ্যই পাবলিক টয়লেট থাকতে হবে। নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা টয়লেট থাকতে হবে। আমি নির্দেশ দিচ্ছি, আপনাদেরকে পাবলিক টয়লেটের দায়িত্ব নিতে হবে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যদি না করেন, আমাদের সিটি করপোরেশন টিম গিয়ে ব্যবস্থা নেবে।’
সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের নিজ উদ্যোগেই পাবলিক টয়লেটগুলো করতে হবে জানিয়ে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, “আমি আপনাদের অনুরোধ করবো প্রত্যেক গ্যাস, পেট্রোল স্টেশন ও শপিং মলে পাবলিক টয়লেট স্থাপন করবেন। এছাড়াও আমি সমাজের সিভিল সোসাইটিসহ সকল নাগরিকদের বলছি, আপনারা আমাদের পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করুন এবং আমাদের যে ‘সবার ঢাকা অ্যাপ’ আছে সেখানে গিয়ে আপনাদের মতামত দিন। কারণ আপনাদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি জানান, “ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৪০টি পাবলিক টয়লেট রয়েছে। ডিএনসিসি'র ‘সবার ঢাকা অ্যাপ’ এ পাবলিক টয়লেটগুলোর লোকেশন দেওয়া আছে। অ্যাপ ওপেন করলে লোকেশনগুলো দেখা যাবে।”
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের তেলেঙ্গানার গ্রেটার ওয়ারঙ্গল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের মেয়র গুন্ডু সূধা রানি, পিরজাদিগুরা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের মেয়র জাক্কা ভেংকট রেড্ডি, নেপালের ললিতপুর মেট্রোপলিটন সিটির মেয়র চিরি বাবু মহারজন, গোডাওয়ারি মিউনিসিপালিটির মেয়র গজেন্দ্র মহারজন, ওয়াটারএইড দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ডা. মো. খায়রুল ইসলাম, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান, সেন্টার ফর আরবান গভর্নেন্সের পরিচালক প্রফেসর ভি. শ্রীনিবাস চারি, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্টাফ কলেজ অব ইন্ডিয়ার (এএসসিআই) সহযোগী অধ্যাপক ড. এম স্নেহলতা প্রমুখ।
আলোচকরা পাবলিক স্যানিটেশন বিষয়ে সচেতনতা নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি মত বিনিময়কালে তারা কোন বিষয়গুলোতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান সমস্যাগুলোও তুলে ধরা হয়।