বৈধভাবে দেশে আমদানির পর বিস্ফোরক দ্রব্য কোথায় মজুদ রাখা হয়, কোন কোন প্রতিষ্ঠান এসব আমদানি করছে– এ বিষয়ে খোঁজ রাখার কথা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি’র। বিস্ফোরক পরিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে পুলিশ। এ জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ডিসিদের বিষয়টি নিয়ে তদারকি এবং খোঁজখবর নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্রাইম কনফারেন্সে বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ক্রাইম কনফারেন্স সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আমদানি করছে কারা, তার পরিসংখ্যান হালনাগাদ করা, ক্রেতা কারা, কেনার পর কোথায় কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মজুদ রাখার কতটুকু নিরাপদ জায়গা আছে, আমদানি বিস্ফোরক দ্রব্যাদি অসাধু চক্ররা বাইরে বিক্রি করছে কিনা– এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে কর্মকর্তাদের। বিস্ফোরক পরিদফতরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, বিস্ফোরক দ্রব্য সংগ্রহ করে কেউ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। সম্প্রতি রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সভা সমাবেশ পথযাত্রার মতো কর্মসূচি করছে। নির্বাচন সামনে রেখে কেউ অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। পুরো বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।
বিস্ফোরক পরিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আবেদন অনুযায়ী বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আমদানির জন্য ৮৫ টি লাইসেন্স, পরিবহনের জন্য ১৩০টি, ম্যাগজিন (আড়াই কেজির বেশি) মজুদের জন্য ২৮টি লাইসেন্স দেওয়া হয়। আবেদনের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সমুদ্র, আকাশ ও স্থলপথে বাংলাদেশ আমদানি হয় এসব বিস্ফোরক।
বিস্ফোরক পরিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গান পাউডার, নাইট্রোগ্লিসারিন, ডিনামাইট, গানকটন, ব্লাষ্টিং পাউডার, মারকারি (পারদ) বা অন্য ধাতুর যেকোনও পদার্থ কার্যকর বিস্ফোরণ ঘটানো অথবা আতশবাজি তৈরির উদ্দেশে ব্যবহৃত হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার ক্রাইম ড. খ. মুহিদ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বিষয় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। কারা বিস্ফোরক আমদানি করছে, কোথায় মজুদ রাখা হচ্ছে তা খোঁজ-খবর রাখা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এসব বিষয় খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি পুলিশি নজরদারিতে গতিশীলতা আনতে কাজ করা হচ্ছে।