যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া করছিলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইয়াজউদ্দীন। গত ১৮ জুলাই সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে মানববন্ধন করেছে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ নামের একটি সংগঠন। এসময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
সোমবার (২৪ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমেরিকা আমাদের দেশে মানবাধিকার নিয়ে নাকগলায়, আমাদের স্যাংশন দেয়। কিন্তু তাদের দেশে আমাদের ছাত্র নিহত হলো, সেখানে তারা কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এখন তাদের মানবাধিকার কোথায়?
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি অ্যাড. মশিউর রহমান বলেন, আমেরিকা বাংলাদেশের যেকোনও ছোটখাটো সাধারণ বিষয়েই কথা বলে। আমরা ধিক্কার জানাতে চাই ওই রাষ্ট্রকে যারা মুখে মানবতার কথা বলে, কিন্তু আমাদের দেশের এক তরুণ সেখানে হত্যার শিকার হয়েছে, সে হত্যার বিচার এখনও করতে পারেন নাই আপনারা। আপনারা আমাদের দেশের মানবাধিকারের কথা বলেন। আপনাদের মানবাধিকার কোথায় এখন? আমরা এই হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
সংগঠনের সদস্য সচিব আশরাফ হোসেন বলেন, ভাগ্য বদলানোর জন্য ইয়াজউদ্দীন আমেরিকা গিয়েছিল। কিন্তু সে ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনি। তাকে নির্মম হত্যার শিকার হতে হলো। তাহলে কোথায় গেলো আমেরিকার মানবতা যারা মানবতা নিয়ে এতো কথা বলে?
‘বিনা কারণে সুরসুরি দেওয়ার মনোভাব থেকে সরে আসতে’ বিদেশিদের পরামর্শ দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম টিকটকার হিরো আলমের কোথায় কী হলো সেটা আপনারা আপনাদের অফিসিয়াল পেইজ থেকে বিবৃতি দিয়েছেন। অথচ আপনাদের দেশে যখন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয় সেগুলো নিয়ে কোনও কথা বলেন না। আমাদের এক ভাই নিহত হয়েছে সেটা আপনারা দেখেন না। আমরা বলতে চাই আপনার রাষ্ট্রে কে কীভাবে আমাদের সন্তানকে হত্যা করেছে তা চিহ্নিত করে দ্রুত এর বিচার করুন।
মুন্সি আরিফ হোসেন নামের একজন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের ভাই, একইসঙ্গে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হত্যার শিকার হয়েছেন।... এ বিষয়ে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কারও দায়িত্বশীল কোনও পদক্ষেপ আমরা দেখলাম না। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত আছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি এই পরিবারকে যেন সব রকম আর্থিক সাহায্য করে আমেরিকান দূতাবাস সে দাবি জানাচ্ছি।
মঙ্গলবার (২৫ জুরাই) নিহতের স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে আমেরিকান অ্যাম্বাসিতে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাওয়াসহ এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ লিপি দেওয়া হবে বলে জানানো হয় মানববন্ধন থেকে। মানববন্ধনে নিহতের পরিবারের কোনও সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।