গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন (এনজিডব্লিউএফ)। বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনজিডব্লিউএফ’র সভাপতি আমিরুল হক আমিন। তিনি বলেন, ‘গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা শহিদুলের রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই আরও দুই গার্মেন্টস শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। তাদের একজন আশুলিয়ার অ্যাপারেলস এক্সোসরিজ অ্যান্ড প্রিন্টিং লিমিটেডের শ্রমিক মো. রবিউল ইসলাম। তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে গার্মেন্টস মালিকদের ভাড়াটে বাহিনি। আরেকজন গার্মেন্টস শ্রমিক মো. রবিউল ইসলাম। ঢাকার আদাবরে সাইনেস্ট ওয়াশিং লিমিটেডের (সাইনেস্ট গ্রুপ) মালিক এবং বায়ারদের অবহেলাজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।’
আমিরুল হক আমিন বলেন, ‘কয়কদিন আগে শহিদুলকে মেরে ফেলা হলো। আমরা লাশ দাফন করলাম। তার পরিবারের পাশে দাঁড়ালাম। এখন আবার দুই শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। তার মানে কী প্রতি মাসে গার্মেন্টস মালিকরা তাদের ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক বা নেতাদের হত্যা করবে। আর সরকার তাকিয়ে তাকিয়ে তা দেখবে? আমরা তা হতে দেবো না।’
এনজিডব্লিউএফ’র দাবিগুলো হলো– অ্যাপারেলস এক্সোসরিজ অ্যান্ড প্রিন্টিং লিমিটেডের শ্রমিক মো. রবিউল ইসলামের হত্যাকারীসহ সব আসামি ও ইন্ধনদাতাদের গ্রেফতার করা; হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামির সর্বোচ্চ শান্তি নিশ্চিত করা; নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারকে আইএলও কনভেনশন-১২১ অনুযায়ী আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া; ক্ষতিপূরণের দায়ভার সংশ্লিস্ট গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ, সব বায়ার, বিজিএমইএ এবং সরকারকে বহন করা; অবিলম্বে গার্মেন্টস শ্রমিক এবং নেতাকর্মী হত্যা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিক এবং নেতাকর্মী হত্যা বন্ধে সব স্থানীয় ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রম অধিকার বিষয়ক সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন, গ্লোবাল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনস, আইএলওসহ আন্তর্জাতিক মহলকে এগিয়ে আসা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন– আইটিইউসি বাংলাদেশ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা শাকিল আকতার চৌধুরী, ইন্ডাস্ট্রিআল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন আহম্মেদ, ইউনিবিএলসির কো-অর্ডিনেটর মোস্তফা কামাল, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক অদিতি আদৃতা সৃষ্টি প্রমুখ।