ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভা নিধনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বিটিআই নামে নতুন জৈব কীটনাশক এনেছে। সেটি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কাছে এর যথাযথ ব্যাখ্যা চেয়েছে ডিএনসিসি।
জানা গেছে, ‘মার্শাল অ্যাগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ নামে একটি দেশি কোম্পানি ডিএনসিসিকে কীটনাশকটি সরবরাহ করেছে। তারা দাবি করেছে, সিঙ্গাপুর ভিত্তিক কোম্পানি ‘বেস্ট কেমিক্যালস’ এই কীটনাশকটির উৎপাদক।
তবে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন দেখে বেস্ট কেমিক্যালস ঘোষণা দিয়েছে, তারা এই কীটনাশক বাংলাদেশে সরবরাহ করেনি। এমনকি তাদের নাম ব্যবহার করে যারা ‘বিটিআই’ সরবরাহ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে বেস্ট কেমিক্যালস তাদের ফেসবুক পেইজে জালিয়াতির ‘সতর্কবার্তা (স্ক্যাম অ্যালার্ট)‘ শিরোনামে একটি বার্তা দিয়েছে। তাতে লেখা হয়, ‘আমাদের নজরে এসেছে যে বাংলাদেশের মার্শাল অ্যাগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পাঁচ টন বিটিআই লার্ভিসাইড পণ্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) সরবরাহ করেছিল। এতে তারা জালিয়াতির মাধ্যমে (ফ্রডলি) আমাদের কোম্পানির নাম (বেস্ট কেমিক্যাল) বিটিআইয়ের প্রস্তুতকারক হিসেবে ব্যবহার করেছে।’
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, বেস্ট কেমিক্যালের মাধ্যমে পাঁচ টন বিটিআই লার্ভিসাইড সরবরাহ করা হয়নি। মার্শাল অ্যাগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বেস্ট কেমিক্যালের নিযুক্ত কোনও পরিবেশকও নয়। এ ছাড়া মার্শাল অ্যাগ্রোভেট মি. লি শিয়াং নামের এক ব্যক্তিকে বেস্ট কেমিক্যালের রফতানি ব্যবস্থাপক (এক্সপোর্ট ম্যানেজার) এবং বিটিআই বিশেষজ্ঞ দাবি করেছিল, অথচ তিনি বেস্ট কেমিক্যালের কোনও কর্মী নন।
এর আগে গত ৭ আগস্ট গুলশানে ডিএনসিসির কার্যালয়ে বিটিআই প্রয়োগের কাজ উদ্বোধন করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি থেকে জানানো হয়, সিঙ্গাপুরের বেস্ট কেমিক্যালস কোম্পানি থেকে পাঁচ টন বিটিআই আনা হয়েছে। প্রতি কেজির দাম পড়েছে ৩ হাজার ৩৮৫ টাকা করে। সে হিসাবে পাঁচ টনের দাম পড়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে পাঁচ কোটি টাকার বিটিআই আমদানির কথা বলেছিল ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।
সেই অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের বেস্ট কেমিক্যালসের একজন প্রতিনিধির সঙ্গেও সাংবাদিকদের পরিচয়ও করিয়ে দেওয়া হয়। তার নাম জানানো হয় লি কিওয়াং। বলা হয়, তিনি কোম্পানির এক্সপোর্ট ম্যানেজার এবং তিনি ডিএনসিসির কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
এই বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যারা এ কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ইতোমধ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে এর যথাযথ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে জানান ডিএনসিসির মেয়র।