দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেছেন, দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। যদি মানুষ সচেতন হয়, এই জনসচেতনতাই দুর্নীতিকে রুখে দেবে। ‘রুখবো দুর্নীতি গড়বো দেশ, হবে সোনার বাংলাদেশ’ এই স্লোগানে বুধবার (২৩ আগস্ট) মাদারীপুরে আয়োজিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদক সচিব এসব কথা বলেন।
দুদকের মাদারীপুর কার্যালয়ের আয়োজনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খানের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় গণশুনানিতে আরও বক্তব্য রাখেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন, ঢাকা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম, মাদারীপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মোস্তফা হাওলাদার, মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মাঝে সততা, নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা ও মূল্যবোধ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করাই এই গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সরকারি পরিষেবা যে কোনও মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের মাঝে সততা, নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা ও মূল্যবোধ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
দুদকের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানান, গণশুনানিতে মাদারীপুরের বিভিন্ন দফতরে সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানির শিকার, সেবা প্রত্যাশী জনসাধারণ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তাদের অভিযোগগুলো দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা শুনেছেন এবং কিছু অভিযোগের সমাধান করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশনা দিয়ে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তীতে কমিশন যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে দুদক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
গণশুনানিতে মাদারীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল, পাসপোর্ট, বি.আর.টি.এ. , সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস, সমাজসেবা অফিস, নির্বাচন অফিস, পরিবেশ অধিদফতর, বিদ্যুৎ বিভাগ, ব্যাংকিং বিভাগ, শিক্ষা অফিস, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভাসহ মোট ৩৮টি দফতরের বিরুদ্ধে ১০৭টি অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ শুনানির জন্য সেবাপ্রার্থী জনসাধারণ সরাসরি উপস্থাপন করেছেন। উপস্থাপিত ৩৬টি অভিযোগের মধ্যে তিনটি দুর্নীতির বিষয়ে কমিশন অনুসন্ধান করার জন্য প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১০টি অভিযোগের তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছে। গণশুনানি মাদারীপুরের সর্বস্তরের নাগরিকদের উপস্থিতিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে।