সম্প্রতি রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হেদায়েতুল্লাহ আল হাদীকে শিবির সন্দেহে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মারধরের কারণে হাদীর হাঁটুর নিচের হাড় ভেঙে গেছে, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মক জখম হয়েছে। আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাসায় আছেন তিনি।
এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন হেদায়েতুল্লাহ আল হাদী। প্রচণ্ড ব্যথা আর তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগী এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিবির সন্দেহে বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীরা আমাকে মেরেছে। পাশবিকভাবে নির্যাতন করেছে। পা ভেঙে দিয়েছে। আমি পা ভাঙার বিচার চাই না, জীবনের নিরাপত্তা চাই। সুস্থভাবে বাঁচতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমি কোনও দল বা সংগঠনের সদস্য নই, একজন সাধারণ শিক্ষার্থী।’
পুরো ঘটনা সম্পর্কে হেদায়েতুল্লাহ আল হাদী বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর আমার ডিপার্টমেন্টে আমাকে দেখে একটি ছেলে হলে থাকা ফার্স্ট ইয়ারের ছেলেদের এবং কিছু সিনিয়রকে খবর দেয়। পরে ইংরেজি বিভাগের সামনে থেকে ডেকে নিয়ে কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে। হামলায় তারা ১৪ থেকে ১৫ জন অংশ নেয়। তাদের মধ্যে অন্যতম সজীব ফরাজি। এছাড়া বিভাগের সামনে আমাকে মারধরের সময় লাকী নামে এক ম্যাম ছিলেন। তিনি ওই সময় মারধরে বাধা দিলেও হামলাকারীরা তার কথা শোনেনি।’
হাদী বলেন, ‘পরে তারা আমাকে ধাওয়া দিয়ে বাইরে নিয়ে যায়। সেখানে আরেক দফা মারধর করে এবং আমার বাম পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় ভেঙে দেয়। এমনকি মারধরের ঘটনায় আমার এক বন্ধু প্রতিবাদ করতে এলে সেও নির্যাতনের শিকার হয়। পরে বন্ধুরা আমাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা পায়ের ভাঙা অংশ প্লাস্টার করে ব্যান্ডেজ করে দেন।’
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, আমার অপরাধ সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহ নিয়ে আমি ফেসবুকে লেখালেখি করি। আমাকে ক্যাম্পাসে মারধরে নেতৃত্বদানকারী সজিব ফরাজি নিজেও জানতো আমি শিবির নই। কিন্তু আমার কিছু লেখা দেখে সে আমাকে হুমকি দেয় এবং ক্যাম্পাসে ছাতিমতলার সামনে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিলে সে আমাকে প্রটেক্ট করার প্রতিশ্রুতি দেয়, না দিলে লেখাগুলো ছাত্রলীগ কর্মীদের দেখিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে তারা সেটাই করে। আমি যে শিবির না, এ নিয়ে সজিবের সঙ্গে কথাও হয়েছিল এবং সে মেনে নিয়েছিল, যেটার স্ক্রিনশট আছে আমার কাছে।’
হেদায়েতুল্লাহ হাদীর বড় ভাই তোফায়েল আহমেদ হৃদয় বলেন, ‘আমরা এর বিচার চাই না। আমি চাই সুন্দর একটা সমাধান। আমার ভাই যেন নিরাপদে কলেজে যেতে পারে। শুধু সেই নিরাপত্তাটুকু চাই। আমাদের বিচার লাগবে না। আমরা সাধারণ পরিবারের মানুষ, আমরা কোনও ঝামেলা চাই না।’
এদিকে, মারধরে নেতৃত্ব দেওয়া বাঙলা কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সজিব ফরাজিকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের পদহীন এই নেতা কলেজটির আবাসিক হলে থাকেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। এর আগেও কলেজের একাধিক শিক্ষার্থীকে চাঁদা না দেওয়ায় শিবির ও ছাত্রদল আখ্যা দিয়ে মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমন কোনও ঘটনা আমি অবগত নই। ইংরেজি বিভাগ থেকেও এমন কিছু জানানো হয়নি। আমি এখনই বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বলে কী করা যায়, দেখবো। হাদী যেহেতু আমাদের কলেজের শিক্ষার্থী, সে যদি নিরাপত্তা বা অন্য কোনও সহযোগিতা চেয়ে কলেজ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করে, তাহলে আমরা তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো।’ এছাড়া মারধরের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানান অধ্যক্ষ।