নিঃস্ব হওয়ার তালিকায় এখন কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ীদেরও নাম

‘যার যায়— ব্যথা সেই পায়। অন্য সবাই সহমর্মিতা জানাতে পারে। কিন্তু আঘাতটা আমার মতো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর বুকেই লাগে।’বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে লাগা আগুনে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি পুড়ে ছাই হতে দেখে এভাবেই আহাজারি করছিলেন ব্যবসায়ী জুয়েল রানা।

মোহাম্মদপুরে কৃষি মার্কেটে আগুনের ঘটনায় নিঃস্ব শত শত ব্যবসায়ী (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)

মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে মার্কেটটিতে হাজারেরও বেশি দোকান রয়েছে। তার মধ্যে যে অংশে আগুন লেগেছে, সেই অংশে দোকান ছিল প্রায় সাড়ে ৩৫০টির মতো। এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তের কোনও সংখ্যা নির্ধারণ হয়নি। তবে অধিকাংশ দোকানেই আগুনের তীব্রতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিজেদের চোখের সামনেই আয়-উপার্জনের একমাত্র মাধ্যমটি পুড়ে যেতে দেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এরপরও যদি কিছু বের করা যায় তা নিয়েও আপ্রাণ চেষ্টা ছিল তাদের।

সাত ঘণ্টা পরও আগুন পুরোপুরি নেভানো যায়নি (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)

একদিকে আগুনের তীব্রতা অন্যদিকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী, সেই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের শোক-ক্ষোভ-হতাশা সবকিছুই যেন ভর করেছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে। ভবিষ্যতে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন সেই শঙ্কা ব্যবসায়ীদের চোখে-মুখে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তা করছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অগ্নি নির্বাপনী সাহায্যকারী দল। উদ্ধার ও সহায়তাসহ আগুন নিয়ন্ত্রণ কাজে যেন ব্যাঘাত সৃষ্টি যেন না হয় সেজন্য মোতায়েন রয়েছে পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে শত শত দোকান (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি বছরের ৪ এপ্রিল রাজধানীর বঙ্গবাজার এবং ১৫ এপ্রিল নিউমার্কেটে একইভাবে ভোর বেলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। কারণে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় সেখানকার ব্যবসায়ীদের। নতুন করে ভোরে আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় যুক্ত হলেন তারা। কীভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠবেন— এই শঙ্কাই এখন তাদের চোখে-মুখে।

আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করছেন সেনা, নৌ ও বিনান বাহিনীর সদস্যরাও (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বছরের বেশি সময় ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আমার দোকানের প্রায় সব জিনিসপত্রই পুড়ে গেছে। আমি শুধু সর্বস্বান্ত হইনি, সঙ্গে আমার পরিবারও এটার ভুক্তভোগী হয়ে গেলো। এখন কী করবো কিছুই মাথায় আসছে না।

ক্ষতিগ্রস্ত আরেক ব্যবসায়ী বলেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াবে কিনা, তা তো বলতে পারছি না। তবে যদি দাঁড়ায় যদি কোনও আর্থিক সহায়তা দেয়, তা যেন স্বচ্ছভাবে সবার মাঝে বিতরণ হয়— এটাই দাবি থাকবে।

আগুন থেকে কিছু কিছু মালামাল বাঁচাতে পেরেছেন ব্যবসায়ীরা (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)

ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বগত কর্মীরা বলছেন, আগুন নেভাতে পানির সংকটের কারণে কিছুটা বেগ পেতে হয় তাদের। আর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটটি টিন-কাঠসহ বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। যখনই পানি ছেটানো হয়, তখনই ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে পরিণত হয় আশপাশে। একারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়েছে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে এখন শুধুই আহাজারি (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)