সব প্রবীণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য বয়স্ক ভাতা নিশ্চিত করাসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সোশাল প্রোটেকশন অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক (বিএসপিএএন)। রবিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ রয়েছে প্রায় এক কোটি, যা দেশের জনসংখ্যার প্রায় আট শতাংশ। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা তিন কোটি ছয় লাখে গিয়ে দাঁড়াবে বলে অনুমান করা হয়। মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, প্রবীণ মানুষ মানেই বোঝা নয়। অনেকেরই অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার জন্য রয়েছে যথাযথ দক্ষতা, জ্ঞান, সঞ্চয় ও সম্পদ। বর্তমানে বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ৫৮ লাখ এক হাজার জন মাসিক ৬০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন, যা মোট প্রবীণ জনগোষ্ঠীর ৩৯ শতাংশ।
তারা বলেন, প্রকৃত পক্ষে অনানুষ্ঠানিক খাতে বিপুল সংখ্যক প্রবীণ শ্রমজীবী মানুষ এখনও বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির বাইরে রয়েছে। এছাড়া প্রবীণ নিবাসগুলোতে থাকার জন্য যে অর্থ ব্যয় করতে হয়, সে সামর্থ্য প্রবীণ শ্রমজীবী মানুষের নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় রিকশা শ্রমিকসহ অন্যান্য খাতে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও আয় কমে আসছে, যা তাদের জীবিকা নিরাপত্তাকে অনিশ্চিত করছে।
তারা আরও বলেন, সম্প্রতি ঘোষিত সর্বজনীন পেনশন স্কিম নীতিমালায় বলা হয়েছে, সামাজিক সুরক্ষায় ভাতা পাওয়া নাগরিকরা পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে ভাতার তালিকা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য। তাই আমাদের দাবিগুলো সরকারকে মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
সংগঠনের ছয় দফা দাবি হলো— অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মজীবী প্রবীণ শ্রমিকসহ সব শ্রমিকের ডাটাবেজ তৈরি করা; সব প্রবীণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য বয়স্ক ভাতা নিশ্চিত করা; সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্তির জন্য অন্যান্য ভাতা প্রত্যাহার নিয়ম বাতিল করা; বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা এবং ভাতা গ্রহীতার সংখা বাড়ানো; অবদানকারীর অনুপস্থিতিতে মনোনীত পেনশন প্রাপ্তির সময়কাল সাত থেকে কমিয়ে চার বছরে নামিয়ে আনা এবং অবিলম্বে একটি ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স গঠন করা, যা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ওপরে নতুন আইন ও নিয়ম পর্যালোচনা করে বিশ্বব্যাপী ন্যূনতম মান বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করবে।
মানববন্ধনে ছিলেন– বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শ্রমিক নেতা পুলক রঞ্জন ধর, সেলিনা চৌধুরী, মমতাজ বেগম প্রমুখ।