‘বাংলাদেশের ওপর কোনও রাষ্ট্র চাইলেও একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না’

পৃথিবীতে এমন কোনও দেশ নেই, যাদের রাজনীতি বা নির্বাচনের বিষয়ে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য থাকে। তবে ভেতরে ভেতরে কোনও লিয়াজোঁ গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্টজনরা। তারা বলেন, বাংলাদেশের উন্নতি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বহির্বিশ্বের কোনও রাষ্ট্র চাইলেও একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।

শনিবার (৭ অক্টোবর) রাজধানী বনানীর ঢাকা গ্যালারিতে এডিটরস গিল্ড আয়োজিত ‘রাজনীতির প্রকাশ্যে-আড়ালে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এসব কথা বলেন। গোলটেবিল বৈঠকে সঞ্চালনা করেন এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু।

বৈঠকে আলোচকরা বলেন, এখন প্রকাশে যা দেখছি তা হলো, দুটি রাজনৈতিক দল নিজ নিজ অবস্থানে একেবারে শক্ত হয়ে আছে। যিনি সরকারে আছেন, তিনি প্রকাশ্যেই বলছেন ‘আমাদের সংবিধান আছে এবং এই সংবিধানের আলোকেই নির্বাচন হবে’। ঠিক তেমনিভাবে বিপক্ষে রাজনৈতিক দলের এক দাবি, ‘এই সরকারের পদত্যাগ’। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে তারা নির্বাচন মানবে না।

তারা বলেন, এই অবস্থায় আমরা শঙ্কিত। এর থেকে বেরিয়ে আসতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে আসতে হবে।

জনগণ সব বুঝতে পারে জানিয়ে বিশিষ্টজনরা বলেন, এ বিষয়টি অবমূল্যায়ন করাটা রাজনীতিকদের ভুল। আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধ এই বিষয়গুলো রেখে কোনও রাজনৈতিক দল যদি এককভাবে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্যের বিষয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, তাহলে সেটা ঠিক হবে।

বিশিষ্টজনরা আরও বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে এমন একটি অবস্থানে রয়েছে যে চাইলেই অন্য কোনও রাষ্ট্র তার একক ইচ্ছায় কোনও প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। বাংলাদেশ এখন অনেক অগ্রসর হয়েছে। এখন এ দেশে প্রয়োজন সুশাসন। সবাই বলছে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য। এবার এই সমস্যার সমাধান করতেই হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই বিষয় নিয়ে আর কোনও দ্বিমত তৈরি না হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে আলোচক হিসবে উপস্থিত ছিলেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহফুজা খানম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, এনটিভির বার্তাপ্রধান জহিরুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান।