বুড়িগঙ্গায় চোখের জলে প্রতিমা বিসর্জন

চোখের জলে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দিয়েছে ঢাকাবাসী। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) বিকাল থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়েই পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়েছে। বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসবের পাঁচ দিনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

সনাতন ধর্মমতে, আজ দশভুজা দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে স্বর্গশিখর কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে গেলেন। তবে আবারও ভক্তদের কাছে দিয়ে গেলেন আগামী বছর ফিরে আসার অঙ্গীকার। তাই আবারও মর্ত্যলোকে ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় ভক্তরা চোখের জলে দেবীকে বিদায় জানান। এ জন্য তাদের মধ্যে আনন্দ উচ্ছ্বাসও ছিল।

এর আগে পান্তাভাত খাইয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়

ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে বিজয়া দশমীতে পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গায় বিকাল থেকে শুরু হয়েছে ঘট বিসর্জন ও প্রতীমা নিরঞ্জন। দুপুরে ঢাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে একে একে সদরঘাটের ওয়াইজঘাটে আসতে শুরু করে প্রতিমা। নৌকায় তুলে প্রতিমা ঘুরিয়ে করা হয় নিরঞ্জন। এর আগে পান্তাভাত খাইয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়।

এর আগে বিসর্জনের উদ্দেশ্যে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গন থেকে কেন্দ্রীয় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়। তারপর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে ভক্ত সমর্থকরা এসে জড়ো হয় পলাশীর মোড়ে। সেখান থেকে সম্মিলিতভাবে বিজয়ার শোভাযাত্রা বের হয়। এরপর ওয়াইজঘাটের বীণাস্মৃতি স্নানঘাটে এদিন বিকালে সাড়ে ৩টায় প্রতিমা বিসর্জন দেয় ধানমন্ডি সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি। এরপর বিভিন্ন ঘাটে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ২৪৬টি মণ্ডপের প্রতিমা একে একে বিসর্জন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

দুপুরেই ভক্তরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে সমবেত হতে শুরু করেন

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল বলেন, আজ বিজয়ী হয়েছেন দুর্গা মা। এ জন্য আজ আমাদের আনন্দের দিন। আমরা উৎসব করি। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে জানাচ্ছি বিজয়ার শুভেচ্ছা।

বিজয়া শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নিতে দুপুর গড়াতেই ভক্তরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে সমবেত হতে শুরু করেন। প্রতিমা বিসর্জন শেষ করতে পুরান ঢাকার সর্বত্র বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিসর্জনের সময় কেউ যেন কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা না করতে পারে সে জন্য টহল বাড়িয়েছে পুলিশ ও আনসার।

বিসর্জন উপলক্ষে ভক্তদের মিলনমেলায় রূপ নেয় বুড়িগঙ্গার তীর

এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলনমেলায় রূপ নেয় বুড়িগঙ্গার তীর। প্রতিমা বিসর্জন দেখতে আসা ঢাকার শ্যামলী থেকে আসা রনজিত বড়ুয়া বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্যটি অভূতপূর্ব। প্রতিমা বিসর্জনের দিনে নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ দেখে বারবার মনে হচ্ছে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। বিসর্জনে খুবই উচ্ছ্বসিত আমি আর আমার পরিবার। অনেক ভালো লাগছে।

সর্বজনীন দুর্গাপূজার নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ

নিরাপত্তার বিষয়ে উপপরিদর্শক সূত্রাপুর থানা ডিএমপি (এসআই) নাহিদুল ইসলাম বলেন, সর্বজনীন দুর্গাপূজার নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রদানের লক্ষ্যে (ডিএমপি কমিশনার) নির্দেশনা মোতাবেক পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আজ বিসর্জনের দিন আমরা আরও বেশি তৎপর। পুরান ঢাকার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পুলিশের টহল ও সিসি ক্যামেরা/মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।