মহাখালীতে আগুন: একজনের মৃত্যু, ৪ জন বার্ন ইনস্টিটিউটে

রাজধানীর মহাখালীর আমতলীতে খাজা টাওয়ারে আগুন লাগার খবর পেয়ে আতংকে রশি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে মারা গেছেন হাসনাহেনা (২৭) নামে এক নারী। তিনি অরবিট নেটওয়ার্কিং কোম্পানিতে টেলি সেলস সেকশনে কাজ করতেন।

আর্থ কমিনিউকেশনের নেটওয়ার্কিং সেন্টার (Noc) কোম্পানির অপারেশন অফিসার তারেক হোসাইন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ৯ ও ১০ তলায় তাদের অফিস। তিনটি কোম্পানি এক মালিকের। অরবিট নেটওয়ার্কিং কোম্পানিতে টেলি সেলস সেকশনে কাজ করতেন হাসনাহেনা। তার অফিস ছিল নবম তলায়। তিনি রশি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে মারা যান।

এই ঘটনায় আরও চার জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে রাত ৯টায় দুই জনকে  সেখানে নেওয়া হয়। তাদের একজন-কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার তাওসিন আহামেদ রাকিব (২৭)। তিনি আর্থ টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কিং সেকশন কাজ করতেন। অপরজন সৈয়দ মেহেদী হাসান (২৭)। তিনি নবম তলায় রেশ নামে নেটওয়ার্কিং কোম্পানিতে ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করতেন।

পরে আরও দুই জনকে উদ্ধার করে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে ভর্তি করা হয়। তারা হলেন-খাজা টাওয়ারের ১৩ তলার সাইফ পাওয়ার টেকের ডিজিএম এইচ এম আব্দুস সবুর (৪৩) ও তার গাড়ি চালক মো. রফিকুল ইসলাম (৪৫)।

সত্যতা নিশ্চিত করেন বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, দুই জন আমাদের এখানে এসেছে। ধোঁয়ায় তাদের শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদেরকে অবজারভেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত মেহেদী হাসান জানান, তিনি সিঁড়ি দিয়ে নেমেছেন। ধোঁয়ার কারণে কিছুই দেখতে পাননি। বাহিরে আসার মুহুর্তে শ্বাস নিতে পারছিলেন না। তারপর আর কিছু জানেন না।

সেখান থেকে তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। পরে বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেহেদীর বাবা আক্তার সিরাজী।

অপরদিকে, তাওসিন আহামেদ জানিয়েছেন, তিনি দশম তলায় কাজ করতেন। ঘটনার সময় ছাদে চলে যান। সেখান থেকে পাশের ভবনে যান। তারপর নিচে নামেন। তবে ১০ তলা থেকে উপরে যাওয়ার সময় চারদিকে ধোঁয়া দেখতে পান। অন্ধকারের মধ্যেই উপরে উঠেন। আর নিচে নামার অবস্থা ছিল না। পরে ছাদে গিয়ে পাশের ভবনে রশি দিয়ে পার হন।