রাজধানীর লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের গার্লস গাইডের সদস্যদের নিয়ে ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার গুরুত্ব’ শীর্ষক একটি ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ নভেম্বর) এ আয়োজন করে বেসরকারি নারী উন্নয়ন সংস্থা ‘নারী মৈত্রী’। অনুষ্ঠানে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার দাবি তুলে ধরেন গার্লস গাইডের সদস্যরা।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের প্রধান অধ্যক্ষ ড.মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের প্রোগ্রামস ম্যানেজার মো.আব্দুস সালাম মিয়া, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের কমিউনিকেশন ম্যানেজার হুমায়রা সুলতানা এবং বিশেষ অতিথী হিসেবে ছিলেন লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) নাসরীন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি। তিনি বলেন,পাবলিক প্লেসে ধূমপানের কারণে অধূমপায়ীরা স্বাস্থ্যগত ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে, নারী ও শিশুরা এর ভুক্তভোগী। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে নারীর প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস, গর্ভপাত এবং সন্তান জন্মদানে মা ও শিশু মৃত্যুর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে, রেস্তোরাঁসহ সব পাবলিক পরিবহনকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত করা গেলে সেখানে আগত অধূমপায়ীদের হৃদরোগের ঝুঁকি ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে, শ্বাসতন্ত্র ভালো থাকবে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে। মৃত্যুর এই ভয়াল ছোবল থেকে বেরিয়ে আসতে নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণে আমাদের সচেতন হতে হবে এখনই।
গার্লস গাইডের সদস্যদের সামনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নারী মৈত্রীর প্রোজেক্ট কোঅর্ডিনেটর নাসরিন আকতার। তিনি জানান, তামাক ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং কর্মক্ষেত্র, পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (২০১৩ সালে সংশোধিত) যুগোপযোগী করে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে ছয়টি বিষয় অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়।
তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করণে গুরুত্ব দিয়ে মো.আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো অধূমপায়ী ও নতুন প্রজন্মকে তামাকের ছোবল থেকে রক্ষা করা। তরুণ প্রজন্ম যাতে নতুন করে ধূমপানে আসক্ত হয়ে না পরে সে জন্য বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক দ্রব্যের প্রদর্শনী ও খুচরা শলাকা বিক্রি বন্ধ করতে হবে। বর্তমানে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও ই-সিগারেটে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ই-সিগারেটসহ সব ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস্ পুরোপুরি নিষিদ্ধের করতে হবে এবং পরোক্ষ ধূমপানের হাত থেকে সবাইকে রক্ষা করতে ধূমপানের জন্য সব ধরনের নির্ধারিত স্থান নিষিদ্ধ করতে হবে।
অধ্যক্ষ ড.মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম নারী মৈত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তামাক একটি ক্ষতিকর দ্রব্য। এ দ্রব্য অবিলম্বে বর্জন করা উচিত। এ জন্য আমাদেরকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। হতে হবে যথেষ্ট সচেতন। তবে তার আগে প্রয়োজন তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করা।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন- লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের সম্পাদক, গার্লস গাইড কমিটির আহ্বায়ক, সহ-আহ্বায়ক এবং সদস্যসহ অন্যান্য শিক্ষকরা।