বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত সবার দৃষ্টিতে আনতে হলে সবারই কিছু দায়িত্ব আছে। সেই দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিতে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম চালানো দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখতে পারলে পর্যটক আসবে না। আর পর্যটক না আসলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে না।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে দেশের অন্যতম শীর্ষ অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতে আয়োজিত ‘বিচ ক্লিনিং ও সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী পর্যটন বিষয়ক বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রথম দিনে সৈকতে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অংশ নেন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক।
এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ দেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা মাস্টারপ্ল্যান হয়েছে, সবার চেষ্টায় কক্সবাজারকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় সি বিচ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ প্রতিনিধি উদিসা ইসলাম স্বেচ্ছাসেবকদের কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের নাগরিক আপনাদের তত্ত্বাবধানে সুনাগরিক হয়ে উঠবে। পর্যটনকে পরিচ্ছন্ন রাখতে স্বেচ্ছাসেবকরা যে বিশাল সামাজিক দায়িত্ব পালন করছেন, বাংলা ট্রিবিউন সবসময় তার পাশে থাকবে ‘
পর্যটন উদ্যোক্তা তৌহিদুল ইসলাম তোহা বলেন, ‘এই উদ্যোগ মানুষকে সচেতন করতে সহায়ক হবে। একটি পরিচ্ছন্ন সৈকত পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখন মানুষ আগের চেয়ে সচেতন হয়েছে।’
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল কবির বলেন, ‘কক্সবাজার আমাদের গর্ব, আমরা আমাদের এই সম্পদকে পরিচ্ছন্ন রাখবো।’
আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাপনায় ছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়াসিদ। এতে অংশ নিয়েছে কক্সবাজারের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কক্সিয়ান এক্সপ্রেস’, ‘তারুণ্যের অভিযাত্রিক’, ‘স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশন’, ‘সিইএইচআরডিএফ’ ও ‘ইয়ুথ অর্গানাইজেশন অব উখিয়া’ এর সদস্যরা। আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার ‘পর্যটনের সাফল্য ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন রয়েছে। এদিন এই স্বেচ্ছাসেবকদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হবে।
এই আয়োজনে বিশেষ সহযোগিতায় ছিল বিকাশ। এছাড়াও, আয়োজনে এয়ারলাইন পার্টনার হিসেবে ছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নলেজ পার্টনার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, বেভারেজ পার্টনার কাজী অ্যান্ড কাজী টি এবং হোটেল পার্টনার হোটেল কল্লোল।