মেঘনা থেকে বালু তুলতে পারবেন না সেলিম চেয়ারম্যানের ভাইও

চাঁদপুরের আলোচিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সেলিম খানের ভাই বোরহান খানকে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার জজ আদালত। এর ফলে তিনি মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। 

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (১৭ জানুয়ারি) আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন।

আদালতে বোরহান খানের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি চাঁদপুরের আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খানের ভাই বোরহান খানকে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়ে আদেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।

প্রসঙ্গত, মেঘনা নদীতে (চাঁদপুর সদর ও হাইমচরে অবস্থিত ২১টি মৌজা এলাকায়) জনস্বার্থে নিজ খরচে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ করার নির্দেশনা চেয়ে ২০১৫ সালে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান। ওই রিট নিষ্পত্তি করে ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে চাঁদপুরের ২১টি মৌজায় অবস্থিত মেঘনার ডুবোচর থেকে বালু উত্তোলনে সেলিম খানকে অনুমতি দিতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর ২০২২ সালের ১৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। আপিলের শুনানি শেষে সেলিম খান বালু উত্তোলন করতে পারবেন না বলে রায় দেন আপিল বিভাগ।

এছাড়া ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর চাঁদপুরের মেঘনা নদী থেকে আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খানের ছেলে শান্ত খানকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়ে হাইকোর্টের ২০২০ সালের একটি রায় স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

আরও পড়ুন:

‘নদী থেকে বালু তুলতে পারবেন না চেয়ারম্যান সেলিম খান’