ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম আসছেন—এমন খবরে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকান আগের রাতে সরিয়ে নেন ব্যবসায়ীরা। পরদিন দুপুরে মেয়র ওই এলাকা ঘুরে যাওয়ার ঠিক পরই আবার ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসে পড়েন ভাসমান ব্যবসায়ীরা। এটি মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরসহ আশপাশের ফুটপাতের ঘটনা।
বুধবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মিরপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্যারিস রোড খাল পরিদর্শন ও খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও ময়লা পরিষ্কারের বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে আসেন মেয়র। এর আগে মেয়রের আসার সংবাদ পেয়ে বুধবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকার ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান সরিয়ে নেন। মেয়র চলে গেলে বিকালে আবারও রাস্তার ওপর দোকান সাজাতে থাকেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা বলেন, 'গতকাল লাইনম্যানরা জানান মেয়র আসবেন, তাই দোকান সরিয়ে নিতে হবে। তাই রাতে দোকান সরিয়ে নিই। পরে আজ দুপুরের পর বলে লাইন ক্লিয়ার। তখন আবার দোকান বসাই।'
জানতে চাইলে মিরপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক বলেন, 'ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে যদি পুলিশ প্রশাসন আমাদের সহায়তা করে, তাহলে তা সম্ভব। আজ মেয়র মহোদয় আসবেন বলে সবাই দোকান সরিয়ে রেখেছেন, আবার বিকালেই বসিয়েছেন— এতে লাভ কী হলো। পুলিশ এদের ৫ জনের বিষয়েও যদি ব্যবস্থা নিতো তাহলে অন্যরা সতর্ক হতো। আমি বলবো, পুলিশ প্রশাসন যদি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয় তাহলে সমাধান হবে৷
মেয়র আতিকের মিরপুর পরিদর্শনের বিষয়ে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন বলেন, আজ (বুধবার) মেয়র মহোদয় শুধু খালের বর্তমান দৃশ্য পরিদর্শন করতে গিয়েছেন। যারা খাল দখল করে রেখেছে তাদের সরে যেতে অনুরোধ করে খাল উদ্ধারে স্থানীদের সহায়তা কামনা করেন তিনি।
ফুটপাত উচ্ছেদের কোনও পরিকল্পনা ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, মেয়র মহোদয় কোথাও গেলে ডিএনসিসির কিছু যান সেখানে থাকে। তাৎক্ষণিক কোনও সিদ্ধান্ত এলে তখন সেগুলো কাজে লাগে।
হোপ স্কুল ও মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুলের সামনের ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা এই মার্কেট নগরবাসীর চলাচলে ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। ভাসমান দোকানগুলোর কারণে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর থেকে পূর্বদিকের তিনটি সড়কে জনসাধারণের চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টিসহ যানজটও সৃষ্টি হয়।