‘হালুম-টুকটুকিরা’ মাতালো বইমেলার প্রথম শিশুপ্রহর

অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিনের শুরুটা ছিল শিশুদের জন্য। আয়োজক বাংলা একাডেমির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বইমেলার শিশু চত্বরে আয়োজন করা হয় শিশুপ্রহর। এসময় বিশেষ আয়োজনে জনপ্রিয় শিক্ষামূলক টেলিভিশন ধারাবাহিক সিসিমপুরের হালুম, টুকটুকি, ইকরি, শিকুর সঙ্গে নাচে-গানে মেতে ওঠে শিশুরা। 

এদিন সকাল সাড়ে ১১টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিশু চত্বরে ‘শিশুপ্রহর’ উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ইউএসএইডের বাংলাদেশের পরিচালক (শিক্ষা) সোনিয়া রেনল্ডস কুপার, বইমেলার সদস্য সচিব কে এম মুজাহিদুল ইসলাম ও অন্যরা।

উদ্বোধনকালে কবি নূরুল হুদা শিশুদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে বই পড়ার বাংলাদেশে পরিণত করতে চাই। আমরা বই পড়ে বাংলাদেশকে বই পড়ার দেশে পরিণত করতে পারবো, সারা বিশ্বকে বই পড়ার বিশ্বে পরিণত করতে পারবো। সারা পৃথিবীকে একটি দেশে পরিণত করতে হলে বই পড়তে হবে।’

শিশুপ্রহরের উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি শিশুকে জন্মের পর থেকে শব্দের সঙ্গে পরিচিত করতে হবে। সিসিমপুর কোনও একটি ভাষার শব্দ নয়, সব ভাষার শব্দ, সিসিমপুর সারা বিশ্বের শব্দের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করিয়ে আসছে।'

পরে শিশুদের করতালির মাঝে মঞ্চে প্রবেশ করে প্রিয় চরিত্র হালুম, টুকটুকি, ইকরি ও শিকু। টেলিভিশনে দেখা চরিত্রগুলোকে কাছে পেয়ে খুশি শিশুরাও। নাচ, গান ও খেলায় আনন্দঘন একটি মুহূর্ত পার করে শিশুরা।

কথা হয় শিশুপ্রহরে মেলায় অংশ নেওয়া ৫ বছর বয়সী আনিসার সঙ্গে। কেমন লাগছে জানতে চাইলে আনিসা জানায়, ‘অনেক ভালো লাগছে। আমার পছন্দ ইকরি। ইকরিকে দেখেছি, এখন তার সঙ্গে ছবিও তুলবো।’

বই দেখছে শিশুরা (ছবি: প্রতিবেদক)

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে ৪ বছর বয়সী ছেলে আয়ানকে নিয়ে বইমেলায় এসেছেন সাইফুল আকন্দ। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় ছেলেকে নিয়ে মেলায় এসেছি। ওর পছন্দের বই কিনবো। আর ছেলে সিসিমপুর পছন্দ করে। হালুম-শিকুকে দেখে সে অনেক খুশি।’

তবে মেলার প্রথম শিশুপ্রহরে শিশু ও অভিভাবকদের আশানুরূপ উপস্থিতি ছিল না বলে জানিয়েছেন শিশু চত্বরের বিক্রয় কর্মীরা। তারা বলছেন, এমনিতে মেলার শুরুর দিক, তার ওপর বৃষ্টিও প্রভাব ফেলেছে উপস্থিতিতে। তবে দুপুরের পর উপস্থিতি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

শৈশব প্রকাশ স্টলের বিক্রয়কর্মী রোমানা আক্তার বলেন, সারা সপ্তাহ স্কুল করে ছুটির দিন শিশুরা ঘুমাবে স্বাভাবিক। দুয়েকজন করে আসছে, বই দেখছে। তবে বেলা ১২টা পর্যন্ত তেমন কোনও বই বিক্রি হয়নি। আশা করছি বিকালে ক্রেতাসমাগম বাড়বে।

পছন্দের বইয়ের খোঁজে খুদে পাঠক (ছবি: প্রতিবেদক)

প্রগতি প্রকাশনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা রাফিয়া ইয়াসমিন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে উপস্থিতি কম মনে হচ্ছে। শিশুপ্রহরে স্বাভাবিক প্রত্যাশা থাকে উপস্থিতি ও বিকিকিনি বেশি হবে। কিন্তু মেলার প্রথম দিকে তা হচ্ছে না।’

পাশেই সিসিমপুর স্টলে ৩ বছরের আরাধ্যকে কোলে নিয়ে বই দেখছিলেন স্বপ্নীল সাহা। তিনি বলেন, ‘ছেলে এখনও পড়তে পারে না। মেলায় আনলাম বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করাতে। বই কিনে দেবো, কালারফুল বই খুঁজছি, যাতে ওর আকর্ষণ তৈরি হয়।’

সকালে পাঠক সমাগম ছিল বেশ কম

মাসব্যাপী এ মেলায় সপ্তাহের দুদিন শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুদের জন্য। এই সময়টাকে শিশুপ্রহর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।