নারীদের প্রতি বৈষম্য বন্ধ করলেই তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে

পুরুষেরা সমাজে যে অধিকার ভোগ করে সমাজে নারীদেরও সেই অধিকার ভোগ করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। নারীদের প্রতি সকল বৈষম্য বন্ধ করতে পারলেই তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৪ উপলক্ষ্যে ‘নারীর সম-অধিকার, সমসুযোগ, এগিয়ে নিতে হোক বিনিয়োগ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে) কনসোর্টিয়াম আয়োজিত এক র‍্যালি ও আলোচনা সভায় এ সব কথা বলেন বক্তারা। 

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরিন বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ শ্রমজীবী নারীরা নারী দিবস সম্পর্কে জানেন না কারণ তাদের এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে অংশগ্রহণই করানো হয় না। নারীদের প্রতি সকল বৈষম্য বন্ধ করতে পারলেই তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। আমরা আমাদের মা-বোন-স্ত্রীদের বিভিন্নভাবে সম্মানিত করতে গিয়ে তাদের অধিকার থেকেই তাদের বঞ্চিত করে ফেলি।

প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, পুরুষেরা সমাজে যে অধিকার ভোগ করে সমাজে নারীদেরও সেই অধিকার ভোগ করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। নারীর অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অনেক। নারীরা কোথাও নিরাপদ নয়। নারীকে তার অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করতে হয়। নারীর সকল মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

ইউ ওয়াই সিস্টেমস লিমিটেডের সিও ও চেয়ারপার্সন ফারহানা এ. রহমান বলেন, আইটি সেক্টর আজ থেকে ২৫ বছর আগেও শুধু পুরুষ মানুষের জায়গা ছিল কিন্তু আমি আমার মেধা, শ্রম, সময় ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেছি। আমার কাছে নারীর ক্ষমতায়ন মানে নারীর সিদ্ধান্ত নেয়ার ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতা, পাশাপাশি তার সিদ্ধান্ত তার পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক কীভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে সেটা।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসকে’র পরিচালক (স্বাস্থ্য)  ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রতি বছর আমরা নারী দিবস উদ্‌যাপন করলেও নারীরা পূর্বের বছরের তুলনায় নারী এ বছর কতটুকু অগ্রসর হতে পেরেছে বা কেন অগ্রসর হতে পারেনি তা নিয়ে আমাদের কোনও স্টাডি নেই। আমাদের এ বিষয়ে যথাযথভাবে অনুসন্ধান করে তা নিরসনে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এসময় অনুষ্ঠানে ঢাকা কলিং প্রকল্পের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যে সব নারী প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখছে তাদেরকে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।

নিগার রহমানের সঞ্চালনায় ঢাকা কলিং প্রকল্প কীভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুসহ সকলের সুরক্ষায় স্মার্ট ও টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিতে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়িত করছে তা তুলে ধরেন ডিএসকে কনসোর্টিয়ামের কো-অর্ডিনেটর মো. রকিবুল ইসলাম। পাশাপাশি অনুষ্ঠানটিতে নারী দিবসের তাৎপর্য নিয়ে একটি ধারণাপত্র পাঠ করেন বারসিক এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ফেরদৌস আহমেদ।

অনুষ্ঠানটিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নারী নেতৃবৃন্দ, পরিবেশবিদ, মানবাধিকার কর্মী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ।