নারীর জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এখনও ততটা পরিবর্তিত হয়নি। কর্মস্থলে নারীর কাজের পরিবেশও তেমন অনুকূল হয়ে উঠেনি। তাই আইএলও কনভেনশন ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টার ও গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন নামের দুইটি শ্রমিক সংগঠন।
শুক্রবার (৮ই মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারী শ্রমিক সমাবেশ ও র্যালি করে শ্রমিক সংগঠন দুটি। সেখানে ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টার ও গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতানা বেগম বলেন, বাংলাদেশে পোশাক রফতানি খাতে অধিংকাশই নারী এবং তাদের বেশিরভাগই দরিদ্রসীমার নিচে বাস করেন। এই শিল্প প্রসারের ফলে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ আশাতীতভাবে বেড়েছে। এ শিল্পে বর্তমানে কাজ করেন প্রায় ৭০ ভাগ নারী শ্রমিক। কিন্তু এই খাতে শ্রমিকদের সর্বাধিক অবদান থাকলেও তারা তাদের ন্যূনতম আইনগত অধিকারসহ মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক অনাচার-অবক্ষয় থেকে নারীকে রক্ষার জন্য আইন প্রণয়ন করা হলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায়, এমনকি আইনের ভুল ব্যাখ্যার কারণে আইনের আশ্রয় পাওয়া নারীর পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে নারীকে পদে পদে নিগৃহীত হতে হয়, লাঞ্চিত হতে হয়। নারীর এই বঞ্চনা-লাঞ্চনা শতগুণ বৃদ্ধি পায় একজন কর্মজীবী-শ্রমজীবী নারীর ক্ষেত্রে।
সুলতানা বেগম বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক নানাবিধি সমস্যার পাশাপাশি নারীকে কর্মক্ষেত্রের নানা ধরনের সমস্যা ও বৈষম্যের শিকার হতে হয়। বেতন বৈষম্য, স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশের অভাব, অতিরিক্ত কাজ, রাত্রিকালীন কাজ, সাপ্তাহিক ছুটিসহ অন্যান্য ছুটি না পাওয়া, ট্রেড ইউনিয়ন করতে না দেওয়া, এমনকি কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির মতো ঘটনাও ঘটছে। আমরা আইএলও কনভেনশন ১৯০ ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা যথাযথ বাস্তবায়ন চাই।
সমাবেশ শেষে একটি র্যালি জাতীয় প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট মোড়, তোপখানা রোড, পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টার ও গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতানা বেগমের সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস, কেন্দ্রীয় নেতা খাদিজা রহমান, সুইটি প্রমুখ।