‘সন্ত্রাসের পাহারাদাররা রাজু হত্যার বিচার করতে চায় না’

সন্ত্রাসের পাহারাদাররা রাজু হত্যার বিচার করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশের) সভাপতি দীপক শীল। বুধবার (১৩ মার্চ) মঈন হোসেন রাজুর ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দীপক শীল বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা মঈন হোসেন রাজু শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গিয়ে শহীদ হয়েছিলেন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন আজও তার সেই আদর্শ ধারণ করে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গিয়ে রাজু শহীদ হয়েছিলেন অথচ আজও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সন্ত্রাসের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দিন দিন সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গনের যে স্বপ্ন রাজু দেখেছিলেন, আমরা আজও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করছি। যে স্বপ্নের সলতে রাজু জ্বালিয়েছিলেন, তা আজও জ্বলছে আমাদের চেতনায়। রাজুর দেখানো পথ ধরেই আমরা বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গণতান্ত্রিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সড়কদ্বীপে শহীদ রাজুর বেদীতে ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা মহানগর সংসদ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।

সংগঠনের সভাপতি দীপক শীলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহির শাহরিয়ার রেজার সঞ্চালনায় শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাজুর সহযোদ্ধা ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ মাহমুদ খান এবং সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম।

শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আরও ছিলেন– বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হাসান তারিক চৌধুরী, লুনা নূর, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, মানবেন্দ্র দেব, সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক এটিএম তাহমিদুজ্জামান, ঢাকা মহানগর সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাবেক সভাপতি কল্যাণ সাহা প্রমুখ।

১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল বের করে গণতান্ত্রিক ছাত্রঐক্য। মিছিল টিএসসির সড়কদ্বীপে পৌঁছালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ হন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় সংসদের সমাজকল্যাণ ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী মঈন হোসেন রাজু। তার স্মরণে এবং সন্ত্রাসবিরোধী চেতনা ধরে রাখার প্রত্যয়ে তৈরি হয় সন্ত্রাসবিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্য।