এশিয়ার অন্যতম নারী আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন কমলা ভাসিন। তার মৃত্যুর পর ২০২১ সাল থেকে তার নামে ‘কমলা ভাসিন অ্যাওয়ার্ডস ফর ড্রাইভিং জেন্ডার ইকোয়ালিটি অ্যাক্রস সাউথ এশিয়া’ চালু হয়। তবে এই অ্যাওয়ার্ড সম্পর্কে না জানার কারণে গত বছর বাংলাদেশ থেকে কেউ আবেদন করেননি। তাই এবার আবেদকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণে একটি অবহিতকরণ সভা করেছে কমলা ভাসিন অ্যাওয়ার্ড কমিটি।
বুধবার (১৫ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘কমলা ভাসিন অ্যাওয়ার্ড ২০২৪’ বিষয়ক অবহিতকরণ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে অ্যাওয়ার্ড কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে পুরস্কার কমিটির সদস্য এবং আজাদ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী দোলন গাঙ্গুলী বলেন, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদনকারী আবেদন করলেও বাংলাদেশ থেকে ২০২৩ সালে কোনও আবেদন জমা পড়েনি। যেহেতু কমলা ভাসিন সত্যিকার অর্থেই নিজেকে একজন দক্ষিণ এশীয় ভাবতেন, তাই এই পুরস্কারের দক্ষিণ এশীয় প্রকৃতি বজায় রাখতে বাংলাদেশ থেকেও অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাসকারী যেকোনও ব্যক্তি এই পুরস্কারের জন্য আবেদন করতে পারেন।
সভার শুরুতে মানবাধীকার কর্মী খুশী কবির সভার উদ্দেশ্য ও কমলা ভাসিনের অবদান সম্পর্কে কথা বলেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে কমলা ভাসিনের লেখক, কবি, শিশু সাহিত্যিক সত্তা এবং সমাজবিজ্ঞানে তার অবদান আর পাণ্ডিত্যের কথা।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর কমলা ভাসিনের মৃত্যুর পর তার জীবন উদযাপন ও জেন্ডার সমতার উদ্দেশ্যে তার কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আজাদ ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিয়া এবং আই পার্টনার-ইন্ডিয়া সমবেতভাবে ‘কমলা ভাসিন অ্যাওয়ার্ডস ফর ড্রাইভিং জেন্ডার ইকোয়ালিটি অ্যাক্রস সাউথ এশিয়া’র সূচনা করে।
প্রতি বছর নারী ও পুরুষ দুটি বিভাগে এই পুরস্কার দেওয়া হবে। যে নারী (সিস অথবা ট্রান্স) প্রথাবহির্ভূত বা অপ্রচলিত পেশায় সফলভাবে কর্মরত এবং যে পুরুষ (সিস অথবা ট্রান্স) জেন্ডার সাম্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কাজ করেন, তারা এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই অ্যাওয়ার্ডে বিচারক হিসেবে আছেন দক্ষিণ এশিয়ার স্বনামখ্যাত নারী অধিকার ও মানবাধিকার কর্মী, সমাজসেবী, সাংবাদিকসহ প্রথিতযশা ব্যক্তিরা।
প্রতিটি পুরস্কারের আর্থিক মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় এক লাখ টাকা। অর্থমূল্য ছাড়াও পুরস্কৃত ব্যক্তি দক্ষিণ এশিয়ার সমাজকর্মীদের নেটওয়ার্কের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন। পুরস্কারের আবেদনের ঘোষণা হয়েছে গত ৮ মার্চ এবং আবেদনের শেষ তারিখ ৭ জুন। ভারতের নয়াদিল্লির হ্যাবিট্যাট সেন্টারে আগামী ৩০ নভেম্বর এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হবে।
এ সময় সভায় আরও বক্তব্য দেন সাংগাত বাংলাদেশের কান্ট্রি কোর গ্রুপের সদস্য অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা প্রমুখ।