এমপি আজীম হত্যা: সেই জিহাদের ১২ দিনের রিমান্ড

ঝিনাইদহ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক ক্যাবচালক জুবেইর ওরফে জিহাদ হাওলাদারের ১২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত আদালত। এমপি আজীমের মরদেহের খণ্ডিতাংশ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র খুঁজে বের করতে ১৪ দিনের রিমান্ড চায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

শুক্রবার (২৪ মে) জিহাদের মুখ ঢেকে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এসময় তাকে  প্রশ্ন করা হলে সে কোনও উত্তর দেয়নি। এরপর তাকে কলকাতার সিআইডি সদর দফতর ভবানীভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজীমের দেহাংশ ট্রলিতে ভরে যে ক্যাবে করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, সেই ক্যাবচালক জুবেইর ওরফে জিহাদকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি লাশের সন্ধান দেন। কীভাবে আজীমকে কলকাতার বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে হত্যা করা হয়েছে, সেই বিষয়েও সিআইডিকে বিস্তারিত তথ্য দেন ক্যাবচালক।

পুলিশ সূত্র জানায়, জুবেইরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাত ১০টা নাগাদ বাগজোলা খালে উদ্ধার অভিযান চালায় কলকাতা সিআইডি ও পুলিশের একটি দল।

গত ১২ মে চিকিৎসার কথা বলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যান এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার। সেদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে কলকাতায় তার পারিবারিক বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন তিনি। পরের দিন ১৩ মে ‘বিশেষ প্রয়োজনের’ কথা বলে দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে গোপালের বাড়ি থেকে বের হন আনার। সন্ধ্যায় ফিরবেন বলেও জানান তিনি। বিধান পার্কের কাছে কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে ট্যাক্সিতে উঠেছিলেন তিনি।

চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় আজিমের ফোন থেকে গোপালের কাছে মেসেজ আসে, তিনি দিল্লি যাচ্ছেন এবং সেখানে পৌঁছে তাকে ফোন করবেন। পরে তার সঙ্গে ভিআইপিরা আছেন জানিয়ে বন্ধু গোপালকে ফোন না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছিলেন।

গত ১৫ মে আবার আনারের নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় গোপালকে জানানো হয়, তিনি দিল্লি পৌঁছেছেন এবং ভিআইপিদের সঙ্গে আছেন। তাকে ফোন করার দরকার নেই। একই বার্তা পাঠান বাংলাদেশে তার ব্যক্তিগত সহকারী রউফের কাছেও।

১৭ মে আনারের পরিবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে গোপালকে ফোন করেন। ওই সময় তারা গোপালকে জানান, তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তারা। পরিবারের পক্ষ থেকে ওই দিনই ঢাকায় থানায় অভিযোগ করা হয়। এরপর আর এমপি আনারের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

২০ মে এমপি আনারের খোঁজ করতে গিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে। তারা জানতে পারে, কলকাতায় বন্ধুর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তার মোবাইলের লোকেশন একবার পাওয়া গিয়েছিল সেখানকার নিউমার্কেট এলাকায়। এরপর ১৭ মে তার ফোন কিছুক্ষণের জন্য সচল ছিল বিহারে।

পরে বুধবার (২২ মে) ভারতের সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জিভা গার্ডেন্সের একটি ফ্লাটে এমপি আনারকে খুন করা হয়েছে।