আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিক্রির দ্বিতীয় দিন ছিল আজ সোমবার (৩ জুন)। আগামী ১৩ জুনের ট্রেনের টিকিট বিক্রি হয়েছে আজ। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছিল পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট বিক্রি, আর পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছিল দুপুর ২টা থেকে।
বিক্রি শুরু হওয়ার ৪ ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট প্রায় সবই শেষ হয়ে যায়। ১৪ হাজার ১৫৭টি টিকিটের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে যায় এসময়। আর প্রথম আধা ঘন্টায় টিকিট পেতে হিট হয় ১ কোটি ৯০ লাখ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের উত্তরবঙ্গের ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে চলাচলকারী একতা, দ্রুতযান ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের টিকেটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এরপরেই রয়েছে ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটের কুড়িগ্রাম ও রংপুর এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-নীলফামারি রুটের চিলাহাটি ও নীলসাগর এক্সপ্রেসের চাহিদা। এই তিন রুটের টিকেট প্রথম ১০ মিনিটেই শেষ হয়ে গেছে।
ঢাকা থেকে লালমনিরহাটে চলাচলকারী একমাত্র আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেস হওয়ায় এই রুটের টিকেটও দ্রুততম সময়ে শেষ হয়ে যায় বরাবরের মতো।
অপরদিকে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে চলাচলকারী চার আন্তঃনগর ট্রেন– পদ্মা, সিল্কসিটি, বনলতা ও রাজশাহী এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি হতে সময় লেগেছে এক ঘন্টার মতো।
যশোর ও খুলনা অঞ্চলের তিন আন্তঃনগর ট্রেন– বেনাপোল, সুন্দরবন ও চিত্রা এক্সপ্রেসের টিকিটও অধিকাংশ বিক্রি হয়ে গেছে।
এদিকে দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। এ অঞ্চলের ১৫ হাজার ৮১১টি টিকিটের মধ্যে ১৫ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। আর প্রথম আধা ঘণ্টায় এই অঞ্চলের টিকিট পেতে হিট পড়ে ১ কোটি ১ লাখ।
তবে পূর্বাঞ্চলের ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সামান্য কিছু টিকিট অবিক্রীত রয়েছে। এ রুটে চলাচলকারী ননস্টপ সোনার বাংলা ও সূবর্ণ এক্সপ্রেসের অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়েছে। তবে মহানগর এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী ও চট্টলা এক্সপ্লেসের কিছু টিকিট বিক্রি বাকি আছে।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট বিক্রির শুরুতেই উত্তরবঙ্গের টিকিটের অনেক চাহিদা ছিল। এদিন পূর্বাঞ্চলের টিকিটেরও চাহিদা ছিল।
রেলওয়ের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের আগে আন্তঃনগর ট্রেনের ১২ জুনের আসন বিক্রি হয় গতকাল ২ জুন; ১৩ জুনের আসন বিক্রি হয় আজ ৩ জুন; ১৪ জুনের আসন বিক্রি হবে ৪ জুন; ১৫ জুনের আসন বিক্রি হবে ৫ জুন; ১৬ জুনের আসন বিক্রি হবে ৬ জুন।
এবার শতভাগ টিকিট বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট অনলাইনে সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া ট্রেনের যাত্রা শুরুর আগে স্টেশন থেকে ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি হবে।