আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (প্ল্যাটিনাম জুবিলি) উপলক্ষে অস্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। রবিবার (২৩ জুন) বিকালে ভিয়েনার ডেজনারটাসে রিডবান হলে এ অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি খন্দকার হাফিজুর রহমান নাসিম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান শ্যামল।
এতে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি অস্ট্রিয়া প্রবাসী এম. নজরুল ইসলাম।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থায়ী মিশন ভিয়েনার রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম, পাবনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম পাকন, অস্ট্রিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি রবিন মোহাম্মদ আলী, অস্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রুহী দাস সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন হোসেন প্রমুখ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরই বাঙালি জাতির উপর বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু হয়। প্রথমেই মাতৃভাষার উপর আঘাত আসে। পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ-বঞ্চনার প্রতিবাদে প্রগতিশীল নেতাকর্মীরা এক হয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে গঠন করেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।’
‘মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়। ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু তখন কারাবন্দি ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দলটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ১৯৫২ সালেই বঙ্গবন্ধু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরের বছর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পশ্চিমাদের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের পতাকাতলে বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ করেন। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরিত করার জন্য কাজ করছে।’
অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, ‘১৯৭১ সালে সদ্য স্বাধীন একটা দেশকে বঙ্গবন্ধু যখন গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন তখন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি নৃশংসভাবে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। তার পরবর্তী সময়ে জেলের ভেতরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে তারা আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে পারে নাই। আওয়ামী লীগের রাজনীতি জনস্বার্থে আত্মদানের মহিমায় উদ্ভাসিত, কারণ এটি শুধু রাজনৈতিক দল নয়, বাংলাদেশের জন্ম এবং বাঙালি জাতির উত্থানপর্বের প্রতিটি স্পন্দনের সঙ্গী।’
রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন। আজকে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে চলছেন।’