সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বাতিল দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে তাদের সমর্থন জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
শুক্রবার (৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান ও অধ্যাপক আবদুস সালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে জারিকৃত সরকারি পরিপত্রের অংশবিশেষ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। একইসঙ্গে কোটাব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি আমরা সমর্থন জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের অবদানের স্বীকৃতি এবং সম্মান জানানোর অন্য আরও অনেক বিকল্প আছে। সে বিকল্পগুলো বংশ পরম্পরায়ও চলতে পারে। কিন্তু তা না করে চাকরিতে বংশ পরম্পরায় ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখা অযৌক্তিক বলে মনে করি আমরা। কারণ এর ফলে বেকার সমস্যা যেমন প্রবল হবে, তেমনি তুলনামুলকভাবে যোগ্য ও মেধাবীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। এটি এক ধরনের বৈষম্যও বটে। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের সাথেও তা সংগতিপূর্ণ নয়।
আমাদের সংবিধানে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা রাখার কথা বলা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সবাই অনগ্রসর নন উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাই ঢালাওভাবে সবাইকে কোটা সুবিধা প্রদান সংবিধানের চেতনারও পরিপন্থি বলে আমরা মনে করি। আমাদের বিশ্বাস কোটাব্যবস্থা পুনর্বহালের সঙ্গে বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকারের যোগসাজশ রয়েছে। আদালতের রায়কে ব্যবহার করে সরকার রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা করছে। আমরা উদ্বেগের সঙ্গে আরও লক্ষ্য করছি যে, কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা নানাভাবে নির্যাতন ও হুমকি দিয়ে নিবৃত করার চেষ্টা করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং শিক্ষার্থীদের নির্যাতন এবং হুমকি প্রদানকারী সন্ত্রাসীদের শাস্তি দাবি করছি।
কোটাব্যবস্থা পুনর্বহাল প্রতিবাদে চাকরিপ্রত্যাশী ও শিক্ষার্থীদের চলমান যৌক্তিক ও ন্যায্য আন্দোলনকে সম্মান জানিয়ে কোটাব্যবস্থা বাতিলসহ অবিলম্বে তাদের চার দফা দাবি পূরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে জোর দাবি জানায় সংগঠনটি।