‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনা’ পেলে রাজপথ ছাড়বেন শিক্ষার্থীরা

কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীরা এখনও রাজপথে অবস্থান করছেন। শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, বাংলা মোটরসহ রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন তারা। আজ রবিবার (৭ জুলাই) দুপুর ২টা থেকে অবরোধ  শুরু করে সন্ধ্যা ৬টার পরও কর্মসূচি চালিয়ে যেতে দেখা গেছে তাদের।

সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আজকের মতো আগামীকাল সোমবারও বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হবে। আগামী এক সপ্তাহে ধরেও এটি চলতে পারে। তারা এখন কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। নেতারা যখন বলবে, অবরোধ তখনই তুলে নেওয়া হবে।

অবরোধে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আরও জানান, আমাদের আজ রাত ৮ পর্যন্ত কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। রাতে যেন দুষ্কৃতকারীরা প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সন্ধ্যার মধ্যে হয়তো অবরোধ তুলে নিতে পারি। আমরা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেলেই আজকের মতো উঠে যাবো।

পরবর্তী কর্মসূচি রাত ৮টায় ঘোষণা করা হবে বলে জানান আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)

এদিকে সরেজমিন দেখা গেছে, সময় যত গড়াচ্ছে, আন্দোলনকারীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমছে। দুপুর ২টার পর থেকে ৬টা পর্যন্ত  সায়েন্স ল্যাবের কোনও পাশেই যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। চার পাশে শত শত গাড়ি আটকে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া সেখানে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক রয়েছে যেন কোনও ঝামেলা সৃষ্টি না হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সতর্ক করছে যেন তাদের মধ্যে দুষ্কৃতকারীরা ঢুকতে না পারে।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে নীলক্ষেত থেকে মিছিল নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নেন তারা। এর ফলে মুহূর্তেই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘কোটা নয়, মেধা চাই’, ‘চাকরি পেতে স্বচ্ছ নিয়োগ চাই’, ‘কোটা প্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘এই বাংলায় হবে না, বৈষম্যের ঠিকানা’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কোটা বাতিল ঘোষণা করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একটি বিশেষ শ্রেণিকে যে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তা বাতিল করতে হবে। অন্যথায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।

দাবি না মানলে সড়ক অবরোধ চলবে বলে জানান আন্দোলকারীরা

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এরপর ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওইদিন এই আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত।

সেদিন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেছিলেন, সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকবে নাকি বাতিল হবে, এ বিষয়ে আপিল বিভাগই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

পরে গত ৪ জুলাই প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত বহাল রাখার নির্দেশ দেন।

এর আগে, ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

শাহবাগ অবরোধ করে আন্দোলন চলছে

এই কোটা প্রথার আন্দোলনে পুরো শহর যানজটে, জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেকে। এটাকে কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আন্দোলনকারী বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব উমামা ফাতেমা বলেন, ‘প্রথমতই আন্দোলন চলাকালীন কেউ যাতে চিকিৎসাবঞ্চিত না হোন সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি। শাহবাগ মোড়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি হাসপাতাল আছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই রাস্তা বহুল ব্যবহৃত। সারা দেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে আমাদের পরিষ্কার বার্তা দেওয়া আছে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সব যানবাহনকে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের সুযোগ করে দিতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারপরও কিছু মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নিঃসন্দেহে। কিন্তু আমরা মনে করি, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের এই আন্দোলনে সমর্থন আছে। বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থার শিকার যে তাদের সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, ভাই-বোনেরা হচ্ছেন, যার ফলে কিছুটা কষ্ট হলেও তারা আন্দোলনে সমর্থন জানাচ্ছেন। ফলে আন্দোলনের ফলে যেটুকু সমস্যা তৈরি হচ্ছে, শহরবাসী তা মেনেই আমাদের আন্দোলনে অব্যাহত সমর্থন দিচ্ছেন। এজন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’