শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে ভারতীয় মোবাইল দেশে নিয়ে আসা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইফোনসহ ২০৭টি মোবাইল, একটি ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও নগদ ৯৪ হাজার টাকা জব্দ করেছে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। এ সময় চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়। তারা হলেন, মো. শাকিল ও তার ভাই মো. শাহীন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) এসব তথ্য জানান অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া লালবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. ইমরান হোসেন।
তিনি জানান, ভারতের কেরালার নাগরিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র শাহিন রোশান। গত ২৭ মার্চ তার ব্যবহৃত আইফোনটি হারিয়ে যায়। প্রায় তিন মাস পর প্রযুক্তির সহায়তায় গুগল লোকেশনের মাধ্যমে জানতে তিনি পারেন যে, তার মোবাইলের লোকেশন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। গত ২ জুলাই তিনি তার ব্যক্তিগত নম্বর থেকে আমার (ইমরান হোসেন) হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করেন এবং তার হারানো মোবাইল উদ্ধারে সহযোগিতা চান।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ভারতীয় ওই নাগরিকের হারিয়ে যাওয়া আইফোনের অবস্থান ও ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশের সহায়তায় ৩ জুলাই অভিযান চালিয়ে করে পূর্ব রসুলপুরের ২ নম্বর গলির একটি বাসা থেকে শাহিন রোশানের হারিয়ে যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় শাকিল ও তার ভাই মো. শাহীনকে আটক করা হয়।
লালবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুভাই জানান, পার্সেলের ভেতরে অবৈধ পথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশ থেকে তারা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আইফোনসহ স্মার্টফোন চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে এনে দোকানে বিক্রি করেন। তাদের বাসায় অভিযান চালিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ও মডেলের পুরান সচল ও অচল ১৩৮টি আইফোন, ১১টি রেডমি, ১২টি ভিভো, ১০টি স্যামসাং, ৭টি অপো, ৫টি রিয়েলমি, ২টি লাভা, ২টি গুগল ও একটি করে মোটারোলা, নোকিয়া, পোকো ও ওয়ানপ্লাসসহ মোট ১৯০টি স্মার্টফোন এবং একটি পুরান অ্যাপল ব্রান্ডের ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও চোরাই মোবাইল ফোন বিক্রির নগদ ৯৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ধানমন্ডির অচার্ড পয়েন্ট মার্কেটের মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় শাকিলের দোকানের ভেতর থেকে বিক্রির জন্য ডিসপ্লেতে রাখা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ও মডেলের পুরান ৫টি অপো, ২টি রিয়েলমি, ২টি আইকিউ জিরোজিরো, একটি ইনফিনিক্স, ২টি পোকো, ৪টি ওয়ানপ্লাস, একটি ভিভোসহ ১৭টি সচল ও অচল স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে উল্লেখ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তাদের কাছ থেকে জব্দ করা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের একাধিক নম্বরের যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান, চোরাচালানের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আনা চোরাই আইফোনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ও মডেলের স্মার্টফোনের পার্সেলের ভিডিও, ছবি এবং চোরাই মোবাইল ফোন বিক্রির বিভিন্ন তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত শাকিল ও শাহিন ভারতের বিভিন্ন শহর বিশেষ করে মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাই, হায়দ্রাবাদ, কেরালা এলাকা থেকে এসব চোরাই মোবাইল ফোন কিনে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে এনে বিক্রি করেন।