কোটা আন্দোলনকারী ও শিক্ষকদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা ঢাবি সাদা দলের

সংবাদ সম্মেলন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও পেনশন স্কিম বাতিল নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অসম্মানজনক’ অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সোমবার (১৫ জুলাই)  সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান ও অধ্যাপক আবদুস সালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল করে ২০১৮ সালে জারি করা সরকারি পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে কোটা প্রথা পুনর্বহালের রায়ের পর শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামে। এটাকে দমনের উদ্দেশ্যে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলাও করেছ। গতকাল ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যমূলক কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্যের ফলে আন্দোলনকারীরা আরও প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজ ১৫ জুলাই চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রসীরা ন্যাক্কারজনক সশস্ত্র হামলা চালায়। আমরা এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং হামলাকারী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে উদ্ভূত সংকটের দ্রুত সমাধানের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলে, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার ও শ্রেষ্ঠ অর্জন। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এবং তাদের প্রতি আমাদের সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রশ্নাতীত। চাকরিতে কোটা সংরক্ষণ ছাড়াও তাদের অবদানের স্বীকৃতি এবং তাদের সম্মান জানানোর অন্য আরও অনেক বিকল্প আছে। তাদের প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ আরও নতুন বিকল্প অবলম্বন করা যায়। কিন্তু তা না করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নামে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দ্বিধাবিভক্ত করার অপকৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। এটি দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর হবে না বলে আমরা মনে করি। কাজেই এ ধরনের কাজ থেকেও বিরত থাকার জন্য আমরা সবার প্রতি অনুরাধ জানাচ্ছি।

শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈষম্যমূলক প্রত্যয় পেনশন স্কিম বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন। এই আন্দোলনকে কটাক্ষ ও শিক্ষকদের অসম্মান করে বিভিন্ন মহল থেকে মন্তব্য করা হচ্ছে। গতকাল ১৪ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনেও এমনটাই হয়েছে। এতে আমরা মর্মাহত। পেশাগত দায়িত্বের বাইরে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসমাজের ভূমিকা ও অবদান সুবিদিত। ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলনরত সেই শিক্ষক সমাজকে কটাক্ষ ও অসম্মান কারও কাছে প্রত্যাশিত নয়। আশা করি বিষয়টি উপলব্ধি করে এ থেকে সবাই বিরত থাকবেন।