ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শরিফুল ও মেহেদি নামে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। তাদের রাতে রাখা হয় শাহবাগ থানায়। খবর পেয়ে আজ বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তাদের মুক্ত করে আনেন দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। পরবর্তী সময়ে শিক্ষকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে অপরাজেয় বাংলার সামনে নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষক সমাবেশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিনের সভাপতিত্বে এই সমাবেশ আয়োজিত হয়।
শিক্ষক সমাবেশে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, এই দেশে পুলিশ কী করে পারলো একটা নিরস্র ছেলেকে গুলি করে মারতে? আমি মনে করি, পুলিশকে তাদের চরিত্র বদলাতে হবে। এই দেশে কোনও পরিবারতন্ত্র চলবে না। রাজনীতি করবেন, জনগণের রাজনীতি করেন। ন্যায্য বিচার করবেন, সংবিধান অনুযায়ী করেন।
তারা বলেন, আমরা শুনলাম দুই শিক্ষার্থীকে থানায় আটক করে রাখা হয়েছিল। তাদের আটকে রেখে জোরপূর্বক তাকে দিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। এই নিপীড়ন তাদের ওপর করা হয়। আমাদের দেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পদে-পদে নিপীড়নের শিকার হতে হয়। আমরা বলতে চাই, এর একটা পরিবর্তন প্রয়োজন। আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের গলা চেপে ধরা হয়েছে। আমাদের শিক্ষার গলা চেপে ধরা হবে, এটা আমরা মানি না।
যারা কোটাবিরোধী আন্দোলনটা করছে, সেটাই মুক্তিযুদ্ধের আসল চেতনা উল্লেখ করে শিক্ষকরা বলেন, আমাদের ছাত্রদের রাজাকার ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। আমরা বলতে চাই, আমাদের ছাত্ররা রাজাকার না। আমাদের ছাত্রদের রাজাকার ট্যাগ লাগাবেন না। ছাত্রদের হলের ভেতর যে নির্যাতন চলছে, আমরা সেটা আর সহ্য করবো না। আর যারা আমাদের ছাত্রদের নির্যাতন করেছে, আমরা তাদের বিচার চাই।
তারা বলেন, দেশে এখন যা কিছু ঘটছে তা একটি অরাজনৈতিক অগণতান্ত্রিক চর্চার ফলাফল। আমরা মনে করি এই আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন দিকের সূচনা হবে। আমরা আরও বলতে চাই প্রধানমন্ত্রী চাইলেই এই ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না। কেউ বিরোধিতা করলেই তাকে রাজাকার বলা যায় না।
এসময় শিক্ষকরা নিজেদের কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলো হলো, শিক্ষার্থীদের ওপর যারা হামলা-নির্যাতন করেছে, তাদের বিচার করতে হবে; হল থেকে ছাত্রলীগ নামধারী বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। কোনোভাবেই যেন কোনও বহিরাগতরা প্রবেশ করতে না পারে; শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে; এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি অনুযায়ী কোটা সংস্কার করতে হবে।
একইসঙ্গে তারা যুক্ত করেন, সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেটা মানছেন না। আমরাও মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের এই সিদ্ধান্ত মানার কোনও কারণ নেই।