যমুনার সামনে সড়ক অবরোধ করে নিখোঁজদের পরিবারের বিক্ষোভ

আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছর সরকারের আমলে নিখোঁজ ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফিরে পেতে তাদের পরিবারের সদস্যরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুর থেকে তারা রাজধানীর ভিআইপি সড়কের অন্তর্বর্তী সরকারের বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান করছেন।

শতাধিক নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। কারও স্বামী, কারও বাবা, কিংবা কারও ভাইয়ের খোঁজে তারা অবস্থান করছে। স্বজনরা জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাস্তা ছাড়বেন না।

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সকালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে এসে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি করেন তারা। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা রাস্তা অবরোধ করে বসে পড়েন।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ দাবি করেন তাদের স্বজনরা (ছবি: আরমান ভূঁইয়া)

তেজগাঁও থানা যুবদলের নেতা বশির উদ্দীন হাওলাদার ২০১১ সালের ১৪ জুন রাজধানীর গুলিস্তান থেকে নিখোঁজ হন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার স্ত্রী হোসনে আরা ও সন্তানরা যমুনার সামনে তাকে ফিরে পাওয়ার দাবি করেন। হোসনে আরা বলেন, আমার স্বামী নিখোঁজের পর থেকে বিভিন্ন থানা, জেলখানাসহ সব জায়গায় খুঁজেছি। যে যেখানে বলছে সেখানে গিয়েছি। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর আমরা আয়নাঘরের সামনে কয়েকবার গিয়েছি একবার স্বামীকে দেখার জন্য। আমার সন্তানদের সামনে আমি কোনও উত্তর দিতে পারছি না।

সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।  ‘আয়না ঘর- আয়না ঘর, খুলে দাও খুলে দাও’; ‘মুক্তি চাই মুক্তি চাই, গুম স্বজনদের মুক্তি চাই’; ‘আমাদের দাবি আমাদের দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’ বলে স্লোগান দেন তারা।

রাস্তা আটকে নিখোঁজদের স্বজনদের বিক্ষোভ (ছবি: আরমান ভূঁইয়া)

ছেলে সাইফুল ইসলাম টিটুকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে এসেছেন মা শাহেরা জসিম। তার ছেলে রাজধানীর কদমতলী থেকে ২০১৩ সালে নিখোঁজ হন। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আমার বাবাকে কয়েকজন মানুষ তুলে নিয়ে যায়। কী কারণে নিখোঁজ হয়েছে সেটাও জানি না। সে সময় কদমতলী থানায় একটা জিডিও করেছিলাম। প্রথমে থানা থেকে জিডিও নেওয়া হচ্ছিল না। তারপর অনেক কষ্টের পর জিডি করি। কিন্তু এতোদিন পার হয়ে গেলেও ছেলের খোঁজ পাইনি এখনও। সরকারের কাছে আমি আমার সন্তান জীবিত হোক মৃত হোক ফিরে পেতে চাই।

নিখোঁজদের খোঁজ না পেলে রাস্তা না ছাড়ার হুমকি দেন বিক্ষোভকারীরা (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

মিরপুর মডেল থানার বিএনপি নেতা আইনুল ইসলাম ২০২০ সালে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে কুমিল্লা যাওয়ার সময় মদনপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। গাড়িসহ তাকে নিয়ে যায় সাদা পোশাকের চার ব্যক্তি। এরপর থেকে তার আর কোনও খোঁজ পায়নি তার পরিবার। তার স্ত্রী শাহিনা ইসলাম বলেন, আমার তিনটা মেয়ে আছে। প্রতিদিন সন্তানরা তাদের বাবার কথা জানতে চায়। আমি মা হয়েও তাদের কোনও উত্তর দিতে পারি না। স্বামীর খোঁজে সব জায়গায় গিয়েছি।

তিনি বলেন, খুনি সরকার চলে গেছে। এখন তো আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিক। আমরা নতুন সরকারের কাছে আমাদের নিখোঁজ পরিবারের সন্ধান চাই। যতক্ষণ আমাদের স্বজনদের সন্ধান না পাই ততক্ষণ আমরা এখানে অবস্থান করবো।