কোটা আন্দোলনে সৃষ্ট সহিংসতার সময় দুষ্কৃতকারীদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৬ আগস্ট) ভোরে বিভিন্ন সময়ে মারা যান তারা।
এর আগে গত ৫ আগস্ট পৃথক ঘটনা দুটি ঘটে। সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
নিহত দুজন হলেন চুয়াডাঙ্গার উজ্জ্বল হোসেন (৩০); তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং বরগুনার আল আমিন হোসেন (২৭); তিনি একটি ওষুধ কোম্পানির সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, মরদেহ দুটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
উজ্জ্বল চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। তার স্ত্রী শিলু আক্তার জানান, গত ৫ আগস্ট কাজ শেষে বাসায় ফিরে সন্ধ্যায় গিয়েছিলেন মুক্তারপুর মোল্লাবাজারে চা পান করতে। এ সময় বাজারের একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। সঙ্গে সঙ্গে দোকানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। তখন ওই দোকানে বসে থাকা উজ্জ্বলসহ এলাকার কয়েকজন গুরুতর আহত ও দগ্ধ হন। শরীরে ৬৬ শতাংশ দগ্ধ হওয়া উজ্জ্বল আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টায় মারা যান।
আল আমিন যশোরের চৌগাছা উপজেলার আফরা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। আল আমিনের ছোট ভাই মো. রাসেল হোসেন জানান, বরগুনার আমতলীতে রেনেটা ওষুধ কোম্পানিতে সেলসম্যান হিসেবে চাকরি করতেন আল আমিন। গত ৫ আগস্ট কাজ শেষে তিনি সেখানকার বাসার দ্বিতীয় তলায় ঘুমিয়ে ছিলেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বাসার নিচতলায় আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতকারীর। আগুন ছড়িয়ে পড়ে ওই ভবনে। তখন ঘুমিয়ে থাকা আল আমিনসহ তার কয়েকজন সহকর্মী আগুনে দগ্ধ হন। সেখান থেকে তারা দগ্ধ অবস্থায় দ্বিতীয় তলা থেকে লাফিয়ে রাস্তায় পড়েন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যালে নিয়ে যান। পরদিন ৬ আগস্ট তাকে ঢাকায় ঢামেকের বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের ৩৬ শতাংশ দগ্ধ হয়। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় আইসিইউতে তিনি মারা যান।