জিয়াউল আহসানকে সেনাবাহিনীই পুলিশে হস্তান্তর করেছে: ডিএমপি

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতারের বিষয়ে সংশোধনী দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সংস্থাটি বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে সেনাবাহিনীর সদস্যরাই তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে এই ‘সংশোধনী’ পাঠানো হয়। 

ডিএমপি জানায়, এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় সেনাবাহিনীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

এর আগে আজ দুপুরে ডিএমপি জানিয়েছিল, রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত বুধবার (১৪ জুলাই) দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতকে গ্রেফতারের কথা জানায় ডিএমপি। তাদের ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে‘ গ্রেফতারের কথা বলা হলেও ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পরই সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে বিমানবন্দর থেকে আটক করার কথা জানা গিয়েছিল।

সেক্ষেত্রে আগেই আটক হওয়া ব্যক্তিরা কীভাবে আত্মগোপনে গেলো এবং কেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করতে হলো সে প্রশ্নও উঠেছে। একইভাবে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তিনি নিজেও আজ আদালতে বলেছেন, ‘গত ৭ আগস্ট রাতে ডিজিএফআইয়ের একটি দল আমাকে বাসা থেকে নিয়ে আসে। এরপর আট দিন ধরে গতকাল রাত পর্যন্ত আমাকে আয়নাঘরে রাখা হয়েছিল।’

গত ৬ আগস্ট আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালকের (ডিজি) দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে।

জিয়াউল আহসান ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তিনি সেনাবাহিনীর একজন প্রশিক্ষিত কমান্ডো ও প্যারাট্রুপার। ২০০৯ সালের ৫ মার্চ র‌্যাব-২ এর উপ-অধিনায়ক ও একই বছর লে. কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে র‌্যাব সদরদফতর গোয়েন্দা শাখার পরিচালক হন তিনি। এরপর ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তিনি কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে র‌্যাব সদরদফতর গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।