বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মোহাম্মপুর থানা এলাকায় ট্রাকচালক সুজনকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানকে ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২৫ আগস্ট) রাতে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার ইন্সপেক্টর মো. সবুজ রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রশিদুল আলমের আদালত এই রিমান্ডের আদেশ দেন।
গত ২৪ আগস্ট রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়া থেকে সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৫ জুনের পর সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা আরোপ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু করে সারা দেশের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৪ জুলাই আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ সম্বোধন করলে শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদে দেশব্যাপী শন্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দেয়। উক্ত শন্তিপূর্ণ আন্দোলন প্রতিহত করতে আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হুকুমে ও নির্দেশে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিধনের ঘোষণা প্রদান করেন। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে গত ২০ জুলাই সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুর থানার বছিলা রোডে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের পাশে রাস্তার ওপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে আসামিদের সরাসরি নির্দেশনায় বাদীর ভাই মো. সুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
আবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয় অজ্ঞাত লোকজন বাদীর ভাইকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি খারাপ থাকায় ময়না তদন্ত ব্যতীত বাদী ওই হাসপাতাল থেকে গত ২০ জুলাই তার মৃত ভাইয়ের লাশ গ্রহণ ও দাফন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার ভিকটিমকে হত্যার ঘটনা সম্পের্কে আসামি জ্ঞাত আছে মর্মে তথ্য পাওয়া গেছে। আসামিকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এজাহারে বর্ণিত সহিংস ঘটনার বিষয়ে এবং মামলার ভিকটিমকে হত্যায় হকুমসহ উসকানিদানকারী ব্যক্তি ও ব্যক্তিদের নামসহ মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাপর আসামিদের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, সাদেক খান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে এমপি ছিলেন তিনি।