২০১৮ সালে কথিত ক্রসফায়ারে রাকিব হাওলাদার নামে এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে ভুক্তভোগীর মা রীতা আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষায় রাখেন। পরে মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) আদালত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ বিভাগকে (সিআইডি) প্রতিবেদনে দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন, ওয়ারী থানার সাবেক ওসি রফিকুল ইসলাম, সাবেক ওসি (তদন্ত) মো. সেলিম, সাবেক পরিদর্শক মাহবুব, সাবেক উপপরিদর্শক জ্যোতি ও রেজাউল, পুলিশের সোর্স মোশাররফ, তার ছেলে কাউন্সিলর আহমেদ ইমতিয়াজ গৌরব, উপপরিদর্শক জাকির হোসেন, গৌরবের এপিএস মিন্টু, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশিকুর রহমান চৌধুরী লাবলু, আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মাইনুল ইসলাম জুয়েল, আব্দুর রহমান, গৌরবের চাচা রাসেল, দিপু চাকলাদার, ফারুল হাওলাদার, নাসিমা বেগম, যুবলীগ নেতা মো. মহিউদ্দিন, পান্থ মিডিয়ার মালিক কালাম ও স্টার মিডিয়ার মালিক মুসা।
বাদীর অভিযোগে থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর কাপ্তান বাজারে পান আনতে গেলে ভুক্তভোগী রাকিব হাওলাদারকে গ্রেফতার করে ওয়ারী থানা পুলিশ। পরে মামলার বাদী এ খবর পেয়ে থানায় যান। সেখানে গিয়ে ছেলেকে ধরে আনার কারণ জানতে চাইলে এসআই জ্যোতি বলেন, আপনার ছেলে হাজতে আছে। এখন কিছু জানাতে পারব না।
পরে তাকে থানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। রাত আড়াইটায় বোরকা পড়ে তিনি থানায় প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে দেখেন তার ছেলে পড়ে আছে। পরদিন সকালে ছেলেকে খাবার দিতে গেলে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল থানায় তিনি ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে না পেয়ে ফিরে আসেন। ওই দিন ভুক্তভোগীর নানা মনির হোসেনকে কল করে জানানো হয় তার নাতি ‘ক্রসফায়ারে’ মারা গেছে।