শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতালি প্রবাসীর ৬ হাজার ৮০০ ইউরো চুরির ঘটনায় বিমানের ৫ কর্মীকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও একজন পলাতক রয়েছেন। আলোচিত এ ঘটনার প্রায় এক মাস পর চুরির রহস্য উদঘাটন হলো।
সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, ইতালি প্রবাসী হাসান আলী সিদ্দিক গত ২ আগস্ট শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পরে তিনি ভারতের চেন্নাই যান। চেন্নাই পৌঁছে তার লাগেজে রাখা বৈদেশিক মুদ্রা না পেয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। বিমানের নিরাপত্তা বিভাগ বিষয়টি প্রাথমিক তদন্ত করে। তদন্তে ঢাকা স্টেশনে কর্মরত ছয় জন ট্রাফিক হেলপারকে চিহ্নিত করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজন পালিয়ে যান। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থ দ্রুত উদ্ধার করে যাত্রীকে ফেরত দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী হাসান আলী সিদ্দিক, ইতালির পাসপোর্ট নম্বর-YB6095891 গত ২ আগস্ট ইতালি থেকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে নামেন। এরপর তিনি ওই দিনই সকাল ৯টা ১০ মিনিটে চিকিৎসার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর-বিজি ৩৬৩ -তে যাওয়ার জন্য তার শ্যালক মেহেদী হাসান (এয়ারপোর্ট হেল্প লাইনে কর্মরত স্টাফ) ও শান্তা ইসলামসহ ২ নম্বর টার্মিনালের ৬ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করেন। এরপর রো-ডি তে ডিপারচার ফ্লাইট চেকিংয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেকিং শেষে ৩ নম্বর ইমিগ্রেশনের উদ্দেশে লাইনে দাঁড়ান। লাইনে দাঁড়ানোর প্রায় ৫ মিনিট পর বিমানের স্টাফ তাদের বলেন, নিরাপত্তা চেকিংয়ের অপারেটর তাদের ডাকছেন। সেই সময় হাসান আলী সিদ্দিক ও তার শ্যালিকা শান্তা ইসলাম এয়ারপোর্ট নিরাপত্তা চেকিং (দ্বিতীয় চেকিং) এ যান।
এ সময় রো-ডি তে কর্তব্যরত এয়ারপোর্ট নিরাপত্তা চেকিং (দ্বিতীয় চেকিং) এ নিরাপত্তা অপারেটর খোকন তার শ্যালিকা শান্তা ইসলামকে জানান, সিদ্দিকের ব্যাগে বেশকিছু মুদ্রা রয়েছে। পরবর্তীকালে নিরাপত্তা অপারেটরদের সামনে সিদ্দিকের শ্যালিকা শান্তা ইসলাম ও শ্যালক মেহেদী হাসানের উপস্থিতিতে ব্যাগ থেকে ইউরোগুলো বের করে জানানো হয় যে, ৬ হাজার ৮০০ ইউরো রয়েছে। এরপর ইউরোগুলো আবারও ব্যাগে রাখা হয়।
পরে চেন্নাই পৌঁছালে ভুক্তভোগী হাসান আলী সিদ্দিক দেখতে পান যে, ব্যাগে কোনও ইউরো নেই। সিদ্কি জানান, ৬৮০০ ইউরো মানে বাংলাদেশি প্রায় ১০ লাখ টাকা, যা তিনি চিকিৎসার জন্য সঙ্গে করে নিয়েছিলেন। পরে এই ঘটনায় তিনি বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।