পার্বত্যঞ্চলে সাম্প্রতিক ঘটনায় তিন দফা সুপারিশ পেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এমন সুপারিশ জানানো হয়।
সুপারিশে বলা হয়, ১৯-২০ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা ও রাঙ্গামাটিতে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করা; নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারের তরফ থেকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা প্রদান করা এবং খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা, রাঙামাটি সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িত ব্যক্তিদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া।
গত ১৮, ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা ও রাঙামাটিতে সংঘটিত ঘটনাকে ‘সাম্প্রদায়িক হামলা’র উল্লেখ করে দীর্ঘ প্রতিবেদনটিতে ঘটনার আদ্যপান্ত কয়েকটি ধাপে বর্ণনা করা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে এ ধরনের ‘সাম্প্রদায়িক হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা’ নতুন কিছু নয় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিশেষ মহলের পৃষ্টপোষকতায় এবারের সাম্প্রদায়িক হামলাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে ২১টি সাম্প্রদায়িক হামলা সংঘটিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির অভিযোগ, এ ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অমুসলিম অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করা এবং সে লক্ষ্যে জুম্মদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা, জুম্মদের ভূমি জবরদখল করা, তাদের চিরায়ত জায়গা-জমি থেকে উচ্ছেদ করা, সর্বোপরি জুম্মদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার প্রকৃত রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের ক্ষেত্রে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের কোনও বিকল্প নেই উল্লেখ করে জনসংহতি সমিতি বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্যেই পার্বত্য সমস্যার সমাধানের সূত্র নিহিত রয়েছে।